নজর২৪ ডেস্ক- গাড়িচাপায় মারাত্মক জখম বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজংকে দায়ী করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন গাড়ির চালকের আসনে থাকা বিচারপতির ছেলে সাঈদ হাসান।
দুর্ঘটনার ১২ দিন পর ১৪ ডিসেম্বর তিনি জিডি করেন বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর গাজী।
জিডিতে সাঈদ হাসান দাবি করেন, মনোরঞ্জন হাজং মোটরসাইকেল নিয়ে উল্টোপথে যাচ্ছিলেন। আর সে কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।
মনোরঞ্জন হাজং আহত হওয়ার ঘটনায় তার মেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং বনানী থানায় মামলা করতে গেলে তা নেয়া হয়নি। তীব্র সমালোচনার মধ্যে ঘটনার দুই সপ্তাহ পর গত বৃহস্পতিবার মামলাটি নেয় পুলিশ। সড়ক পরিবহন আইনের ৯৮ ও ১২৫ ধারায় এই মামলায় গাড়ির চালকসহ অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে মামলার দুদিন আগেই নেয়া হয় অভিযুক্ত গাড়িচালকের জিডি।
আলোচিত এ ঘটনা সম্পর্কে সাঈদ হাসান জিডিতে উল্লেখ করেন, তিনি ২ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে কামাল আতাতুর্ক সড়ক হয়ে গাড়ি নিয়ে কাকলী চৌরাস্তায় বামে টার্ন নেন। এরপর ডিভাইডারের পূর্ব পাশের ওয়ানওয়ে ধরে চেয়ারম্যানবাড়ীর ইউলুপে পৌঁছেন। গাড়িটি যখন দ্বিতীয় ইউলুপে ঢুকবে তখন একই ইউলুপের উল্টো দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল সামনে পড়ে যায়। মোটরসাইকেলটি তার গাড়ির বনেটের বাম পাশের হেডলাইট বরাবর ধাক্কা খায়। এই দুর্ঘটনার ফলে বিএমডব্লিউ গাড়িটি ইউলুপের প্রাচীরে লেগে যায়।
জিডিতে আরো বলা হয়, ‘আমার গাড়িটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়নি বা পেছন থেকে ধাক্কা দেয়নি। বেআইনিভাবে উল্টো দিক থেকে ইউলুপে ঢুকে মোটরসাইকেলের আরোহী বরং আমার গাড়ির বাম পাশের হেডলাইট বরাবর লাগিয়ে দেন। এতে আমি প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হই।’
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা মনোরঞ্জন হাজংয়ের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। একাধিকবার পর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন।
গত ২ ডিসেম্বর মনোরঞ্জন মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি ইউলুপে। এ সময় একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে মারাত্মক আহত হন মনোরঞ্জন। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে তার ডান পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত এবং পরে সংক্রমণ হওয়ায় হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরই মামলা করতে বহুবার চেষ্টা করেন মনোরঞ্জনের মেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং। কিন্তু মামলা নেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর ও সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ১৪ দিন ঝুলিয়ে রাখার পর অবশেষে গত ১৬ ডিসেম্বর বনানী থানা পুলিশ মহুয়ার মামলা গ্রহণ করে।
সার্জেন্ট মহুয়া গণমাধ্যমকে বলছেন, তিনি দুর্ঘটনার বিচার চেয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু ঘটনার ১৪ দিন পর বনানী থানা অজ্ঞাত আসামি দিয়ে মামলা গ্রহণ করেছে। সাঈদের বাবা বিচারপতি হওয়ায় এতকিছু হচ্ছে বলে অভিযোগ মহুয়ার।
