নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমায় ‘মিষ্টি মেয়ে’ নামে পরিচিত সারাহ বেগম কবরী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে আগমন, আর ১৪ বছর বয়সে ‘সুতরাং’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ। তারপর তো একে একে সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। অভিনয় দিয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন চলচ্চিত্রাঙ্গন, পেয়েছেন মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা।
কবরী মৃত্যুর আগে তার গুলশানের বাড়িটি নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। এখন তার ছোট ছেলে শাকের ওসমান চিশতী বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কয়েকজন কবরীর সেই বাড়িতে প্রবেশ করে। বহিরাগত লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ৯৯৯- এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন কবরীপুত্র শাকের। পুলিশ এসে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে। পরে পুলিশের পরামর্শে পরদিন গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাকের।
জিডিতে শাকের অভিযোগ করে বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে আমার বাসার সিঁড়িতে কিছু মানুষের শব্দ পাই। এরপর সিসি ক্যামেরায় দেখি, গ্রাউন্ড ফ্লোরের সব বাতি নেভানো। সিঁড়িতে পায়ের শব্দ পেয়ে ইন্টারকমে ফোন করি। কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ড ফোন না ধরায় আমার সন্দেহ বাড়তে থাকে। ২০ মিনিট পর রাত ২টা ৫০ মিনিটে ক্যামেরায় দেখি তিন ব্যক্তি ফোনের আলো জ্বালিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছেন। পরে একটি মোটরসাইকেলে করে তারা চলে যান। এরপর আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে দায়িত্বরত পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করি।
তিনি বলেন, ফোন পেয়ে রাত সোয়া তিনটার দিকে পুলিশ আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার সিকিউরিটি গার্ড সব লাইট জ্বালিয়ে দেন। এরপর গার্ড জানান, বাসার কেয়ারটেকার সহিদুল ইসলামের কথায় তিনি লাইট নিভিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক বলেন, কবরীর ছেলের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাদের গুলশান লেক রোডের বাড়িতে যাই। এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি আমরা।
শাকের চিশতী বলেন, ২০০১ সালে আমরা আবাসন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পাঁচতলা বাড়িটি নির্মাণ করিয়েছি। মা মারা যাওয়ার আগে গুলশানের এই বাড়িটি নিয়ে নানা আশঙ্কা করেছেন। বাড়ির দুই ফ্ল্যাট মালিকের একজন তিন বছর এবং আরেকজন চার বছর সার্ভিস চার্জ দিচ্ছিলেন না। প্রতিবাদ করলে সেই থেকে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি নিয়ে।
তারা ভেবেছে, মা যেহেতু এখন আর নেই, সহজে বাড়িটি দখল করতে পারবে। তাই হলো, আমাদের বাড়িটি দখলের চেষ্টা চলছে। আম্মু যখন মারা গেল, তখন ভেবেছিলাম কিছু পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু উল্টো আরও অ্যাগ্রেসিভ হলো। মা জীবিত থাকতে লাঞ্ছিত হয়েছে। আমি এখন হুমকির মুখে আছি।
