নজর২৪ ডেস্ক- ঈদ পরবর্তী লকডাউনের ১২তম দিন মঙ্গলবার রাজধানীর সড়কগুলোতে বেড়েছে মানুষের চলাচল। বিভিন্ন প্রয়োজনে গন্তব্য যেতে এসব মানুষকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘক্ষণ।
ব্যতিক্রম প্রাইভেট কারের সুবিধাভোগীরা। কোনো অপেক্ষা ছাড়াই তারা যেতে পারছেন কর্মস্থল বা অন্য কোনো জায়গায়।
সকাল থেকে সড়কে অফিসগামী ও প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হওয়া মানুষের চাপ অন্য দিনগুলোর তুলনায় বেশি দেখা গেছে। গণপরিবহন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
তাদেরই একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী লুৎফর রহমান। তার অফিস উত্তরায়। অপেক্ষা করছিলেন ফার্মগেটে।
লুৎফরের অফিস এতদিন বন্ধ ছিল। জরুরি ঘোষণায় মঙ্গলবার থেকে অফিস করতে হচ্ছে তাকে। তবে অফিস কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা করেনি।
তিনি বলেন, ‘আজকে যদি আমার প্রাইভেট কার থাকত তাহলে আমার জন্য লকডাউন থাকত না। প্রাইভেট কারওয়ালাদের জন্য কোনো লকডাউন নাই। ২ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি; কোনো ট্রান্সপোর্ট নাই। রাস্তায় শুধু প্রাইভেট কার আর প্রাইভেট কার।’
এদিকে রাজধানীর সড়কগুলোতে প্রাইভেট কারসহ অন্য যানবাহনের চাপে বিভিন্ন সিগন্যালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে গাড়িগুলোকে। প্রতিবেদনটি লেখার আগে কারওয়ানবাজার ও বিজয় সরণি সিগন্যাল পার হতে প্রতিবেদককে ৫ ও ৮ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।
করোনার সংক্রমণ কমাতে সব ধরনের অফিস বন্ধ রেখে গত ১ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করে সরকার। এরপর কুরবানির ঈদের আগে গত ১৫ জুলাই থেকে আট দিনের জন্য সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। গত ২৩ জুলাই থেকে ফের ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে।
শেষ ধাপের বিধিনিষেধের মধ্যে সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ রাখা হলেও রোববার থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে শিল্পকারখানা খোলার ঘোষণার পর গণপরিবহণ বন্ধের মধ্যেই চরম ভোগান্তি নিয়ে শনিবার সকাল থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা দেন পোশাক শ্রমিকরা। পরে শ্রমিকদের যাতায়াতের সুবিধায় কিছু সময়ের জন্য লঞ্চ ও বাস চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার।
বিধিনিষেধের মধ্যে শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ায় করোনার সংক্রমণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও সোমবার এক অনুষ্ঠানে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
