শুরুতে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও বর্তমানে সফল হাঁসের খামারি জহিরুল

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরের মামুদনগর ইউনিয়নে প্রায় ৭শো হাঁস নিয়ে উপজেলার সর্ববৃহৎ খামার গড়ে তুলেছেন জহিরুল ইসলাম নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা।

পেশায় সরকারি চাকরিজীবী হলেও নিজের একান্ত চেষ্টা ও নিষ্ঠায় সফল হাঁসের খামারী হিসেবে আজ প্রতিষ্ঠিত এই তরুণ। ৪০ শতাংশ জায়গা নিয়ে একটি শেড ও একটি কৃত্রিম হাউজ বানিয়ে সফলতার সাথে পরিচালনা করে যাচ্ছে বৃহৎ এই হাঁসের খামার। বর্তমানে এই খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ডিম সংগ্রহ করা হয়।

খামার শুরর কঠিন যাত্রা প্রসঙ্গ টেনে উদ্যোক্তা জহিরুল জানায়, প্রথমে ১ হাজার ২০০ বাচ্চা নিয়ে তিনি খামার শুরু করেছিলেন। ডিম পাড়ার সময়ের আগ মুহূর্তে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সব হাঁস একরাতে মারা যাওয়ায় প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলো।

মনোবল না হারিয়ে খামারের যাত্রা সেখানেই শেষ না করে আজ ৩ বছর যাবৎ সফলতার সাথে এগিয়ে নাগরপুরের সব থেকে বড় খামার গড়ে তুলেছেন তিনি।

হাঁসের খামারের বৃহৎ এই ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মালিক মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি বর্তমানে যতটুকু সম্ভব উত্তম পরিবেশে হাঁস পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা পরিবার সদস্যরা মিলেই এই খামার দাঁড় করিয়েছি। কোনো শ্রমিক নেই খামারে। খামার আরো বড় করার চিন্তা ভাবনা আছে আমাদের। সরকারি কোনো সহযোগীতা এখনো আমি পায়নি।

নাগরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস কর্মকর্তা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জাফরুল হাসান রিপন বলেন, আমরা উদ্যোক্তা জহিরুলের সফলতা কামনা করি। সরবরাহের বিপরীতে আমাদের সাধ্যমত ভ্যাক্সিন সহ অন্যান্য চিকিৎসা বা পরামর্শ খামারীদের আমরা সর্বদা দেওয়ার চেষ্টা করি।

উল্লেখ্য, বাজার দাম অনুযায়ী জহিরুল ১০০ পিস ডিম ১ হাজার ২৫০ টাকা হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করছেন। এছাড়াও খাদ্য খরচ সহ খামারের অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দৈনিক ৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। খামারে বর্তমানে ৭০০ হাঁস রয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *