নজর২৪, ঢাকা- প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) উদ্দেশ্য করে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের অন্ধ নুরুল হুদা সাহেব আর কতোদিন ক্ষমতায় রাখবেন জানি না। এই ভদ্রলোক নির্বিবাদে কীভাবে এত মিথ্যা কথা বলেন জানি না। খোদা ওনাকে দোজখে নিয়েও হয়তো খুশি হবেন না।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের কালো আইন বাতিল ও নির্বাচন কমিশনের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি’তে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, পরিবর্তনের জন্য জনগণেরও একটা দায়িত্ব আছে। বিরোধী দলগুলোর ব্যর্থতার কথা অস্বীকার করারও কোনো উপায় নেই। আমরা একত্রে বের করতে পারছি না। কেন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়া হবে না। কেন আমার ভোট আমি দিতে পারি না।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে একটি ভিন্ন নামে দেশে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এটা চলতে পারে না। গণতন্ত্রের নামে ছেলেখেলা করে লাভ নেই। আজকের জনগণকে প্রকৃত মানবিক এবং সুষ্ঠু গণতন্ত্র দিতে হবে। সবাইকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে। সুষ্ঠু ও মানবিক গণতন্ত্র ছাড়া আমাদের মুক্তির কোনো পথ নেই।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকারের সকল কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র বিরোধী। আমাদের সংবিধানে আমার কথা বলার অধিকার আছে, আমার সংগঠন করার অধিকার আছে, আমার বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে জনগণের কাছে। সেটা আমাকে করতে দেওয়া হচ্ছে না।’
গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি বলেন, ‘আজকে জনগণকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এ জাতীয় বাধা দেওয়ার কারণে কী হয়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যতগুলো কাজ আপনি করছেন ক্রমেই তা ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। সদ্য নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে যে আইনের সংশোধনী এনেছেন ফাঁসি। এই ফাঁসি দিয়ে পৃথিবীর কোথাও কোনো পরিবর্তন হয় নাই। এটা মধ্যযুগীয় শাস্তি। আপনারা পত্রিকা খুলে দেখেন, এই আইন করার আগে ও পরে একফোঁটাও অপরাধ কমেনি। বরং বেড়েছে। এখন বাড়তে বাড়তে শিশুর ওপরই হচ্ছে, স্কুলে হচ্ছে, মাদ্রাসায় হচ্ছে। এত বড় ভুল কি করে উনি (প্রধানমন্ত্রী) করলেন?’
জাফরুল্লাহ আরও বলেন, ‘আজকের পত্রিকায় আছে-ভারত আমাদের কতটা লুণ্ঠন করেছে। গত ২০১৮ সালে ভারত বাংলাদেশ থেকে পেয়েছে ১২৮ বিলিয়ন ডলার। আর সারা মুক্তিযুদ্ধে উনাদের খরচ ১০০ মিলিয়নও হয় নাই। ওটা উপলক্ষ করে আজকে দেখলাম তোফায়েল (তোফায়েল আহমেদ) সাহেব বলেছেন, ‘আমার আর কিছু পাওয়ার নাই। বঙ্গবন্ধুর স্নেহ পেয়েছি’। এটা উনার আক্ষেপের কথা। তার মতো লোক হাসিনার পাশেই থাকা উচিত। দলের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী আলাপ করেন না, আমাদের সাথে আলাপ করবে কেন?’
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও আটক দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে নিয়েও কথা বলেন জাফরুল্লাহ। শুধুমাত্র কথা বলার কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আবুল আসাদকে একবছর যাবত আটকে তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। অথচ যারা যারা লক্ষ-কোটি টাকা পাচার করেছে তাদের জামিন আগেই হয়ে যায়। এটা কি গণতন্ত্র হতে পারে?’
