নজর২৪ ডেস্ক- কর্মদিবসের প্রথম দিন রোববার (১৩ নভেম্বর) থেকেই রাজধানীর সড়কে বন্ধ হচ্ছে গেটলক ও সিটিং সার্ভিস। এসব সার্ভিসের নামে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছিলো নগরীর গণপরিবহন খাতে।
এবার বাস মালিকরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে এই দুটো সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই অনুযায়ী রোববার থেকে নগরীতে চলছে সিটিং ও গেটলক সার্ভিস।
এসব বাস সার্ভিস বন্ধের পর কোন বাস এমন সেবার দোহাই দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছে মালিকপক্ষ।
শনিবার, রাজধানীতে নতুন ভাড়া কার্যকর ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে, রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বিআরটিএ ও পুলিশের চলমান যৌথ অভিযানের সময় পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, সিটিং সার্ভিসের নাম যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিলের জন্য তারাই বিআরটিএ’কে জানিয়ে দেবেন।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে এই অভিযানে বেশ কয়েকটি পরিবহনকে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়াও ফেরত দেয়া হয়। নগদ টাকা জরিমানা থেকে আরম্ভ করে প্রাসঙ্গিক অনেক বিধিও প্রয়োগ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারও কারও বিরুদ্ধে মামলাও দেয়া হচ্ছে।
খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইনে সিটিং সার্ভিস ও গেটলক বলে কিছু নেই। কোনো বাসে সিটিং সার্ভিস লেখা যাবে না। এছাড়া বাসগুলোকে সব স্টেশনে থামতে হবে। কোনো বাস সিটিং সার্ভিস ও গেটলক হিসেবে চললে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বাসের রোড পারমিট বাতিল করার জন্য বিআরটিএকে অনুরোধ করা হবে। এছাড়া ওই পরিবহনের মালিক সমিতির সদস্যপদ বাতিল করা হবে।’
খন্দকার এনায়েত উল্লাহ আরও বলেন, ‘বর্তমানে ঢাকা মহানগর এলাকায় চলাচল করা ১২০টি বাস কোম্পানির মধ্যে ১৩টি কোম্পানির ১৯৬টি বাস সিএনজিতে চলে। এসব বাসে যেন অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে পারে সেজন্য এগুলো চিহ্নিত করতে স্টিকার লাগানো হবে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। কোনো বাস অতিরিক্ত আদায় করলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে। এছাড়া ওই পরিবহনের রোড পারমিট এবং রেজিস্টেশন বাতিল করা হবে।’
