শেরপুর ইউপি নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাই-সংঘর্ষ, আহত ২০

মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: দ্বিতীয় ধাপে শেরপুর জেলা সদরের ১৪ ইউনিয়নে আজ বৃহস্পতিবার ১১ নভেম্বর সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোট উৎসব। কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার সংবাদ পাওয়া গেছে।

 

কয়েকটি কেন্দ্রে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এছাড়া মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষের জেরে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চকপাড়া ও গণইভরুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

 

এদিকে লছমনপুর ইউনিয়নের হাতিআলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় ওই দুই কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনায় অন্ততপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে।

 

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পাকুড়িয়া এলাকার নুরুন্নবী মিয়া (২৫) একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ এবং ৩৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ।

 

কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. মোখুলেছুর রহমান জানান, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে এক চেয়ারমান প্রার্থীর সমর্থকরা হুড়মুড়িয়ে ভোটকেন্দ্রের ভেতর ঢুকে পড়েন। এসময় তারা কর্তব্যরত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিকট থেকে ৩টি করে ব্যালট বইয়েএর ৯ সেট ব্যালট পেপার জোরপূর্ব¦ক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

 

এসময় কর্তব্যরত পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং শর্টগানের ১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ব্যালট ছিনতাইয়ের পর কেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপার মো. হাসান নাহিদ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এদিকে, লছমনপুর ইউনিয়নের হাতিআলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা পৌনে ১২টার দিকে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের শর্টগানের গুলিতে তোতা মিয়া (৩২) নামে ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. মুক্তাদির রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোটকেন্দ্রের সামনে দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘিনাপাড়া কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রেও প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকরা সহিংতায় জড়ালে ৬ রাউন্ড গুলি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

 

এছাড়া চরশেরপুর, পাকুড়িয়া ও চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৯ জনের মতো আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে দেখা যায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। কেন্দ্রগুলোতে নারীলা ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিও দেখা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *