শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের অপসারণ চান ইভ্যালির গ্রাহকেরা

নজর২৪, ঢাকা- আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির পরিচালনা নিয়ে হাইকোর্ট গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ও মার্চেন্টরা।

 

শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ইভ্যালির গ্রাহক ও মার্চেন্টবৃন্দ’র ব্যানারে এ দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

কর্মসূচি থেকে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বিরুদ্ধে ইভ্যারি সম্পর্কে ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। পাশপাশি ইভ্যালির সিইও ও এমডি মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান মোছা. শামীমা নাসরিনের মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি জানানো হয়।

 

কর্মসূচি আয়োজকদের প্রধান সমন্বয়ক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ইভ্যালি পরিচালনা করার জন্য হাইকোর্টের গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক কোনো বোর্ড মিটিং করার আগে ইভ্যালি সম্পর্কে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি ই-কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ডের নয়। ইভ্যালি নিয়ে ভিত্তিহীন ও মনগড়া বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে কোনোভাবেই দায়িত্বে থাকতে পারে না। আমরা শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের অপসারণ দাবি করছি।’

 

তিনি বলেন, ‘ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের মুক্তি ছাড়া এ ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব না। তাদের মুক্তি দিয়ে নজরদারির মাধ্যমে ব্যাবসা পরিচালনা করার সুযোগ করে দিতে হবে।

 

ইভ্যালির গ্রাহক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ইভ্যালির এমডি, চেয়ারম্যানরা প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও দাড় করাতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। মোহাম্মদ রাসেল তার আইনজীবী মাধ্যমে জানিয়েছেন, চার মাস সময় দিলে ইভ্যালি তার দেনা পরিশোধ করতে পারবেন। ইভ্যালির আইনজীবী এক টকশোতে দাবি করেছেন, পাঁচজন বিনিয়োগকারীও ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করতে রাজি আছেন।’

 

মানববন্ধনে তাদের ৭ দফা দাবি হলো:

১. ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের মুক্তি দিতে হবে।

 

২. রাসেলকে নজরদারির মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে।

 

৩. এসক্রো সিস্টেম চালু হওয়ার আগে অর্ডার করা পণ্য ডেলিভারি দিতে রাসেল সময় চেয়েছেন, আমরা তাকে সময় দিয়ে সহযোগিতা করতে চাই।

 

৪. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইক্যাব, পেমেন্ট গেটওয়ে, মার্চেন্ট এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের সমন্বয় কমিটি গঠন করতে হবে।

 

৫. করোনাকালীন বিভিন্ন খাতের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রণোদনা দিতে হবে।

 

৬. ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স নিতে হবে ব্যাংক গ্যারান্টিসহ।

 

৭. ই-কমার্স বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত, যেখানে হাজার হাজার উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে এবং লাখ লাখ কর্মসংস্থান হচ্ছে। তাই এই সেক্টরকে সরকারিভাবে সুরক্ষা দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *