নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর পরীবাগে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল স্কলাসটিকার ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মামলার আবেদন করা হলে সেটিকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি শাহবাগ থানা পুলিশ।
ইভানার মৃত্যুতে আগেই ইউডি মামলা থাকায় সেটির সঙ্গে এই অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ইভানার পরিবার ও সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে আদালতে মামলা করা হবে।
এর আগে ইভানার বাবা এ এস এম আমান উল্লাহ চৌধুরী শুক্রবার সন্ধ্যায় মামলার আবেদন করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়— ‘মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে এবং ঘুমের ওষুধের নামে ক্ষতিকর ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় এমন ওষুধ প্রেসক্রাইব করে ইভানাকে ধীরে ধীরে হ.ত্যা করা হয়েছে।’
মামলার এজাহারে ইভানার স্বামী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মানকে ১ নম্বর আসামি, তার প্রেমিকা ব্যারিস্টার সানজানা ইয়াসিন খানকে ২ নম্বর আসামি ও অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হককে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলার আবেদন দায়েরের দুই ঘণ্টা পর পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার এডিসি হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ইভানা মৃত্যুর ঘটনায় এর আগে একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় আর নতুন কোনো মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ইভানার বাবা যে অভিযোগ দিয়েছেন সেটিকে সাপ্লিমেন্টরি হিসেবে নেওয়া হবে। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে ইভানার বাবার অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তে যদি আ.ত্মহ.ত্যার প্ররোচনাজনিত কোনো উপাদান পাওয়া যায় তাহলে সেটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজ্জু করা হবে।’
গত ১৫ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ৪টার দিকে ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে নবাব হাবিবুল্লাহ রোডের সাকুরা গলিতে দুই ভবনের মাঝখান থেকে ইভানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার জানান, ‘পরীবাগে নবাব হাবিবুল্লা রোডের ২/ক/১৪ নম্বর ৯ তলা ভবনের ৫ম তলায় থাকতেন ইভানা। আমরা ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। সেখানে দেখা গেছে, ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ছেন ওই নারী। ওই দিন রাতেই শাহবাগ থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন চাচাতো ভাই এএসএম মাহাবুব উল্লাহ চৌধুরী।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ইভানার পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইভানার শ্বশুর ইসমাইল হোসেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব। নিহতের স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। ইভানার সঙ্গে রুম্মানের ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সংসারে এই দম্পতির দুটি ছেলে রয়েছে। ইভানা উত্তরা ও মিরপুর শাখার স্কলাস্টিকা স্কুলের ইউনিভার্সিটি প্লেসমেন্ট সার্ভিসের প্রধান ছিলেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ও ইভানাকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধারকারী শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্বাস আলী বলেন, ‘অপমৃত্যুর মামলার সূত্র ধরেই তদন্ত চলছে। আপাতত ভিডিও ফুটেজ বলছে, ওই নারী আ.ত্মহ.ত্যাই করেছেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছি। পাশাপাশি স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য, স্বামীর পরকীয়াসহ নানা বিষয়ে উঠা অভিযোগও আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নিরাপত্তা রক্ষী বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে খুব একটা বের হতে দেখা যেত না ওই নারীকে। বেশিরভাগ সময়ই তাকে চুপচাপ দেখা যেত। গত ১৫ সেপ্টেম্বর যখন ঘটনা ঘটে, তখন আমি ডিউটিতে ছিলাম না। পরে শুনেছি ওই নারী ৯ তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আ.ত্মহ.ত্যা করেছেন। কেউ একজন ৯৯৯ কল সেন্টারে ফোন করে ঘটনাটি পুলিশকে জানায়।’
তিনি বলেন, ‘ইভানা তার স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ভবনের পঞ্চম তলায় থাকতেন। এই মুহূর্তে ওই বাসায় কেউ নেই।’
ইভানার এক সহকর্মী বলেন, ‘ইভানার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের খাতিরে অনেক কথাই কানে আসতো। ইভানাকে মানসিকভাবে দুর্বল ভেঙে পড়েছিল। স্বামী রুম্মানের অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে তিনি ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। পারিবারিক কলহ চলছিল।’
