নজর২৪ ডেস্ক- আওয়ামী লীগ কোনো অবৈধ সরকার নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, তার সরকারের সমালোচনাকারীদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই, তাদের প্রতি জাতি একসময় ঘৃণা দেখাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে শুক্রবার প্রবাসীদের দেয়া এক সংবর্ধনায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার পর রাতে নিউ ইয়র্কের ম্যারিয়ট হোটেলে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। আর সেই ভোটে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়েছে। বিএনপির যদি সেই শক্তি থাকত, তাহলে তো তারা ইলেকশন করত। তারা তো ইলেকশনের নামে মাঝপথে কাট মারে। মাঝ পথে যে তারা পিছু হটে চলে যায়, যখনই মনে করে যে জিতবে না, তখনই পেছনের দিকে পালায়। তারপর বলে এই ভোট হয়নি, এটা হয়নি, ওটা হয়নি।’
‘বিএনপি সরকারের আমলে যেসব ইলেকশন হয়েছে, তারা কী ভুলে গেছে?’-এ প্রশ্নও ছোঁড়েন প্রধানমন্ত্রী।
সমালোচকদের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যখন কাজ করে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছি, আর এদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশকে কীভাবে খাটো করবে। আওয়ামী লীগ সরকারকে কেউ কেউ অবৈধ সরকার বলে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে অবৈধ সরকার যারা বলে, তারা এই যে কথাগুলো বলার সুযোগটা পাচ্ছে, এই সুযোগটা কোত্থেকে পাচ্ছে?’
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হয়েছে বলেই সমালোচনাকারীরা এসব কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বৈধ আর অবৈধ যা-ই হই, আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি বলেই তো, সেই সুযোগটা পাচ্ছে। এতই যদি তাদের নীতি আদর্শ থাকে, আমাদের করা এই সমস্ত ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে কেন? এটা তো করা ঠিক না তাদের।’
এসব সমালোচনকারীরা বিএনপি, জামায়াত এবং ৭৫-এর খুনিচক্রের অর্থ দিয়েই চলে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায় আছে, জিয়াউর রহমানের সরকার অবৈধ, এরশাদের সরকার অবৈধ। কারণ মার্শাল ল দিয়ে তারা সরকার গঠন করেছে। আর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী এতিমের টাকা মেরে খেয়ে সাজাপ্রাপ্ত। আর তার ছেলে ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচারের মামলায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ধরা পড়েছে। এমনকি বিদেশেও, শুধু আমাদের দেশে না। আমেরিকার এফবিআইয়ের হাতে তাদের দুর্নীতি ধরা পড়েছে।’
বর্তমান সরকার নিয়ে কেন এই সমালোচনা, সে ব্যাখ্যাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। বাংলাদেশের উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি মহল সমালোচনায় মুখর বলেও মনে করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের যে পরিবর্তন, যারা স্বাধীনতা চায়নি, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, খুনি, যারা পাকিস্তানিদের দালালি করেছে, হানাদার বাহিনীর দালাল, তাদের বাংলাদেশের উন্নতিটা ভালো লাগে না। সেজন্যই তারা বদনামটা করে থাকে।
‘কাজেই তাদের করুণা করা ছাড়া আর কিছুই নেই। তাদের প্রতি জাতি একসময় ঘৃণা দেখাবে। আর আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’
