২৪ ঘন্টার মধ্যে ইভ্যালির রাসেলের মুক্তি দাবি, রাজধানীতে বিক্ষোভ

নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন গ্রাহকরা।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ধানমন্ডি কার্যালয়ের সামনে শতাধিক মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। তাদের অধিকাংশই ইভ্যালির গ্রাহক।

 

ইভ্যালির গ্রাহক পরিচয় দিয়ে তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাসেলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। সেভ ইভ্যালি, সেভ ই-কমার্স ব্যানার হাতে তারা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানেরও মুক্তি দাবি করেন।

 

গত দুই-তিন বছর ধরে তারা ইভ্যালি থেকে পণ্য নিচ্ছেন বলে জানান। গ্রাহকরা বলেন, যে কোনো কারণেই হোক ইভ্যালি পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাকে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কিন্তু আমরা ইভ্যালিকে সময় দিতে চাই। অতীতে আমরা দেখেছি, ডেসটিনির কর্তৃপক্ষকে গ্রেপ্তারের পরে গ্রাহকরা তাদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত পাননি। আমরা মনে করি, ইভ্যালির সিইও-চেয়ারম্যান মুক্ত থাকলে আমাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা থাকবে বা তারা দেরিতে হলেও আমাদের পণ্য সরবরাহ করবে।

 

গ্রাহকরা আরও জানান, ইতোমধ্যে ইভ্যালির গ্রাহকদের সংগঠিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইভেন্ট খোলা হয়েছে। আগামীকাল একই দাবিতে আমরা দুপুর ৩টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবো।

 

ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পরে মোহাম্মদপুরের একটি আট তলা ভবনের পঞ্চম তলার বাসা থেকে র‌্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাদের র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

 

তিনি বলেন, ‘ইভ্যালির সিইও এবং চেয়ারম্যান যে বাসায় থাকেন, মোহাম্মদপুরের সেই বাসায় আমরা বৃহস্পতিবার সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান পরিচালনা করি। এক ঘণ্টা পর তাদের গ্রেপ্তার করে হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসি। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

 

ইভ্যালির শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানান কমান্ডার মঈন।

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে রাসেলের বাসায় বৃহস্পতিবার বিকেলে র‍্যাবের অভিযান চলাকালে সেখানে উপস্থিত হন ইভ্যালির ভুক্তভোগী অর্ধশতাধিক গ্রাহক। তারা সেখানে বিক্ষোভ করেন। এসময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *