কাউনিয়ায় শর্ত না মেনেই গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: রংপুরের কাউনিয়ায় স্কুল খোলার শর্ত না মেনেই গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। মুখে মাস্কছাড়া পাঠদান ও সরকারি নির্দেশনার কোনোটাই মানা হয়নি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় প্রধানসহ সহকারী শিক্ষকদের সতর্ক করে দিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাটোয়ারীটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কারো মুখেই স্কুল মাস্ক ছিল না।

 

রোববার সকাল ১১টার বিদ্যালয়টিতে গিয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষে সহকারী এক শিক্ষক পাঠদান করছেন। সেখানে টেবিলের চারপাশ ঘিরে শিশুশিক্ষার্থীরা কথা শুনছেন। ওই সময়ে শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাস্কবিহীন ছিলেন। অনেকটা গাদগাদি করে কোনো সামাজিক দূরত্ব না মেনেই পাঠদান করা হয়।

 

এদিকে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন অভিভাবকেরা।

 

তারা বলছেন, শিক্ষকদের উদাসীনতায় কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীরা যাতে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকিতে না পড়েন, এজন্য শিক্ষা বিভাগকে আরো কঠোর হতে হবে।

 

বিদ্যালয়ে আসা একাধিক অভিভাবক বলেন, অনেক দিন পর স্কুল খুলে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা আনন্দিত। ছোট ছোট বাচ্চাদের অনেকে মুখে মাস্ক পরে স্কুলে গিয়েছিল। আবার অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। এসব বিষয়টি শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হবে।

 

কিন্তু আমরা উল্টো চিত্র জানতে পেরেছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদাসীনতা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে শ্রেণিকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে জটলা করে পাঠদান করা হয়েছে। এতে শিশুদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

কাউনিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদ সরকার জানান, তিনি নিজে ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সরকারি নির্দেশনা না মানার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছেন। আগামীতে যেনো এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সতর্ক করা হয়।

 

রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এএম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, ১৯ দফা শর্ত দিয়ে স্কুল খোলার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। শর্ত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানের সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাইকে সব সময় মাস্ক পরতে হবে।

 

এসব শর্ত ঠিক মানা হচ্ছে কি না বা স্কুল খোলার পর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কেমন হয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ পাওয়া ওই বিদ্যালয়ের প্রধানসহ সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *