নজর২৪ ডেস্ক- মোদিবিরোধী মিছিল থেকে আটক ছাত্র অধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা-কর্মীর জামিন না হলেও ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি কীভাবে জামিন পেলেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
একই সঙ্গে এ ঘটনায় প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ ছাড়া পরীমনির জামিনের পেছনে অন্য কারণ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন জাফরুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ‘কয়েকজন ছাত্র এখনও মুক্তি পায়নি। আমি-সাকি (জোনায়েদ সাকি) ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলাম। তখন তিনি (প্রধান বিচারপতি) বলেন, আমরা নাকি বিচারে হস্তক্ষেপ করতে পারি না। এখন পরীমনি কীভাবে মুক্তি পেল। সুন্দরী মহিলা বলে?’
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জেনারেল এম এ জি ওসমানী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্রগুলোকে ও খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়ে দেন। খালেদা জিয়া কয় টাকা চুরি করছেন?’
জাফরুল্লাহ আরও বলেন, ‘বিচারপতিদের অভিনন্দন জানাই, তারা পরীমনিকে আগে মুক্তি দিয়েছেন। সুন্দরী মহিলা বলে নয় বিভিন্ন কারণে মুক্তি দিয়েছেন।’
বিএনপিকে উদ্দেশ করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা শুধু প্রেসক্লাবের মধ্যে থাইকেন না। পথে আসেন। পথে এলে আমরাও আপনাদের সঙ্গে থাকবো। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই দেশে গণতন্ত্র আনবো। কিন্তু আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র নয়। জিয়াউর রহমানকে গালি দিলে আপনারা কষ্ট পান। কিন্তু আপনারা তো জিয়াউর রহমানের কথা শোনেন না। বিএনপির গঠনতন্ত্র আপনারা আরেকবার পইড়েন।’
তিনি মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানী বেঁচে থাকলে গণতন্ত্রের জন্য রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে যেতেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘অর্বাচীন ও রাজনীতির দুর্বৃত্তদের ছুড়ে ফেলে ৭১ সালের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ দেশে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিজুর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন— গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব নঈম জাহাঙ্গীর, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লায়লা পারভীন বানু, মুক্তিযোদ্ধা ডা. নাজিম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হোসেন ফোরকান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।
