আমাকে সেদিন ভুলায়ে ভালায়ে নিয়ে গেছে: পরীমণি

বিনোদন ডেস্ক- জেলখানার লাল দেয়ালের ঘেরাটোপে ২৭ দিন কাটিয়ে অবশেষে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিলেন ঢাকাই ছবির আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। বুধবার সকালে কারামুক্ত হন এ নায়িকা।

 

সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে শুভ্রবসনে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে বেরিয়ে আসেন অভিনেত্রী। তিনি এখন রয়েছেন বনানীর ভাড়া বাসায়। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেননি তিনি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে স্বল্প পরিসরে কথা বলেছেন নায়িকা।

 

পরীমণি বলেন, আমি শুরু থেকেই স্ট্রং ছিলাম। আমি যদি অপরাধী হতাম, তাহলে ভেঙে পড়তাম। কিন্তু আমি তো কিছুই করিনি। আমার সঙ্গে কি হয়েছে সব বলব। আমাকে একটু সময় দিন। বেঁচে থাকার জন্য একটা মানুষের মিনিমাম (সামান্য) স্পেস তো লাগে। একটা মাস ধরে এই অবস্থা চলছে।

 

পরী জানান, ২৭ দিনের জেল জীবনে তিনি এক ঘণ্টাও ঠিকমতো ঘুমাননি। বলেন, ‘আমি গত ২৭ দিন ঘুমাইনি। জাস্ট কাশিমপুর থেকে বেরিয়ে এক দেড়ঘণ্টা ঘুমিয়েছি গাড়িতে। মাথাও ঠিকমতো কাজ করছিল না। বাট জেল থেকে বেরিয়ে এই মুক্ত জীবন আর মানুষের উন্মাদনায় আমি সব ক্লান্তি ভুলে যাই। সত্যিই আমি আমার পাখির জীবনটা ফিরে পেয়েছি কাশিমপুর টু বনানীর পথে।’

 

তিনি বলেন বলেন, ‘আমি তো আসলে গত ২৭ দিন মৃতই ছিলাম। জীবন্মৃত আরকি। আসলে এসব নিয়ে আমার অনেক কিছু বলার আছে আপনাদের। অনেক কিছু আছে। আমি তো কিছুই বলতে পারিনি এখনও।’

 

তো বলেন, আপনার জেল জীবনের কথাগুলো। বলতে গিয়েও বললেন না পরীমণি। ক্লান্তিতে তার কণ্ঠ টলটলে। তবু বললেন, ‘আমাকে তো ভুলায়ে ভালায়ে নিয়ে গেছে সেদিন (আটকের দিন)। আমাকে যে সেদিন অ্যারেস্ট করেছে তারা (র‌্যাব), সেটাই জানতাম না। এসব ডিটেল বলতে হবে আপনাদের। আমার অনেক কিছু বলার আছে। আমি কখন বলবো, সেই অস্থিরতায় দম ফেটে যাচ্ছে। ২৭টা দিন আমি ঘুমাইনি। একটু ঘুমোতে চাই।

 

ঢাকাই ছবির আলোচিত এ নায়িকা বলেন, জেলে যাওয়ার আগেই আমার মাথার অসুখটা বেড়েছিল। অসুখটার নাম ভার্টিগো। কখনও মাথা ঘোরে। কখনও মনে হয় চারপাশটা ঘোরে। এ এক অসহ্য অসুখ। একটু স্থির হই, সুস্থ হই। আমি সব বলবো। কারণ, আমার জীবনে লুকানোর কিছু নেই। আমি একটা খোলা বই।

 

পরী আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন আমি কেমন মুক্ত মানুষ। আমি নিজেকে পাখির মতো মুক্ত ভেবেছি আজীবন। একমাত্র নানুভাই ছাড়া আমার আর কোনও পিছুটান নেই। তাই জামিন পাওয়ার পর আমি ২৭ দিনের দুঃখ, অপমান ক্ষণিকের জন্য ভুলে যাই।

 

তিনি বলেন, আমি জামিন পেয়ে হাতে মেহেদি লাগিয়েছি। গেট থেকে বেরিয়ে মুখ লুকাইনি। আমার আনন্দ বা বিজয়টাকে সবার সঙ্গে শেয়ার করে নিয়েছি। আমি হি হি করতে করতে, দাঁত কেলাতে কেলাতে জেল থেকে বের হয়েছি। তো আমি দাঁত কেলাবো না তো কে কেলাবে? আমি চুরি-ডাকাতি বা মার্ডার করিনি। এখানে কোনও প্ল্যান বা উন্মাদনা ছিল না। আমার ভেতরে মুক্তির যে আনন্দটা কাজ করেছে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ফলে হুট করে আমাকে কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আমি পর্দায় অভিনয় করি, জীবনের সঙ্গে নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *