আপনারা জামিন চাচ্ছেন না কেন, আমি পাগল হয়ে যাবো: পরীমণি

নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই ছবির আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণিকে আদালতের এজলাসে উপস্থিত করে শুনানির জন্য আবেদন করেছেন তার আইনজীবী মুজিবুর রহমান। পরে শুনানি শুরু হলে মুজিবুর রহমান আদালতকে বলেন, আমরা আজকে জামিন শুনানি করছি না। আমরা একটা আবেদন জানাই, আমাদের পরীমণির সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমাদের পরীমণির সঙ্গে কথা বলার আদেশ দিন প্লিজ। ৫ দিন চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলতে পাননি।

 

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বিরোধিতা করে বলেন, আপনারা প্রতি শুনানিতে আসামির সঙ্গে কথা বলেছেন। সুতরাও এ ধরনের কথা বা আবেদনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

 

এসময় আদালত আবেদনের বিষয়ে আদেশ না দিয়ে ৫ মিনিটের বিরতি নেন। পরে আদালত এসে জানান পরীমণির আইনজীবীর আবেদন না মঞ্জুর করা হলো।

 

আদালতের ৫ মিনিটের বিরতির মধ্যে পরীমণি তার আইনজীবীদের ডেকে রেগে গিয়ে বলেন, আপনারা আমার জামিন চাচ্ছেন না কেন? আমি তো পাগল হয়ে যাচ্ছি। আপনারা জামিন চান, আপনারা আমার সঙ্গে কী কথা বলবেন? আমি তো পাগল হয়ে যাব? আপনারা বুঝতেছেন আমার কী কষ্ট হচ্ছে? আর সিনিয়র আইনজীবী কই, তিনি আসলেন না কেন? এসময় আইনজীবীরা বলেন, ‘আমরা টেকনিক্যাল কারণে জামিন চাচ্ছি না।’

 

আদালতে শুনানির সময় পরীমণি তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীসহ অন্যান্যদের সঙ্গে এ কথা বলেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম পরীমনির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১৩ আগস্ট ছয়দিনের রিমান্ড শেষে পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা।

 

এ সময় আসামিপক্ষে তাদের আইনজীবী মজিবুর রহমান জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর পরীমনিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

গত ৫ আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বনানী থানার মামলায় তাদের প্রথম দফায় চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ রিমান্ড শেষে ১০ আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুর দ্বিতীয় দফায় দু’দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *