নজর২৪ ডেস্ক- মাদক মামলায় ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে ফের দুদিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রিমান্ড শুনানির দিন (৫ আগস্ট) যে পোশাকে পরীমনিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল ঠিক একই পোশাকে মঙ্গলবার তাকে দেখা যায়। এমনকি তার মুখেও ছিল একই মাস্ক। অর্থাৎ এক কাপড়েই ১২০ ঘণ্টা পার করেছেন পরীমনি।
আদালতে শুনানি চলাকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নারত পরীমনিকে দেখিয়ে তার আইনজীবী মজিবুর রহমান বলেন, ‘একজন নায়িকা ১২০ ঘণ্টা এক পোশাকে রয়েছেন। তিনি তো একজন নায়িকা। তার তো একটা লাইফস্টাইল রয়েছে।’
তখন পরীমনিকে ১২০ ঘণ্টা এক কাপড়ে রেখে আদালতে উপস্থিত হওয়াকে ‘রাজনীতি’ বলেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু।
তিনি বলেন, ‘পরীমনির কাপড় চেঞ্জ না করা একটা রাজনীতি। এখানে সবাই কাপড় চেঞ্জ করেছেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কাপড় পাল্টে আসেননি।’
আবদুল্লাহ আবু আদালতকে জানান, ‘পরীমনিকে কাপড় পাল্টানোর সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি বরং আদালতকে দেখাতে তিনি একই কাপড় পরে এসেছেন।’
শুনানি শেষেও সাংবাদিকদের একই অভিযোগ করে পরীমনির আইনজীবী বলেন, ‘পরীমনির পরিবার কাপড় নিয়ে গিয়েছিল, তবু সিআইডি কাপড় হস্তান্তরের সুযোগ করে দেয়নি। এতে তার আইনি অধিকার খর্ব হয়েছে।’
এ অভিযোগের সত্যতা জানতে আদালত প্রাঙ্গণে যোগাযোগ করা হয় সিআইডির এক কর্মকর্তার সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘তিনি এক কাপড়ে থাকার প্রশ্নই আসে না। তিনি তো দুইবার কাপড় বদলেছেন। আমরা তাকে দুই ধরনের পোশাকে দেখেছি।’
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেন সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান।
পরীমনির পোশাকের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি আদালতের এই ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেই তদন্তের দায়িত্বে থাকা আমার অফিসারদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন, আদালতে আসামিপক্ষের উকিল ভুল তথ্য দিয়েছেন।’
পরীমনিকে রিমান্ডে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা সিআইডির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আসামি এক কাপড়ে ছিলেন কই তেমনটা তো আমার চোখে পড়েনি? আমি গতকালও (সোমবার) তাকে দেখলাম সাদা একটি পোশাকে। এর আগের ইন্টারোগেশনে অন্য রংয়ের পোশাক পরা ছিল। ওনাকে যে রুমে রাখা হয়েছে, সেটি তো সিসি ক্যামেরার অধীনেই আছে। সেখানেও দেখা যাবে তার একাধিক পোশাক।’
পরীমনির মাস্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলে বলেন, ‘বিষয়টা খুবই হাস্যকর। আমি ইন্টারোগেশনে তাকে খুব ভালভাবে কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছি, তার কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, কোনো কিছুর প্রয়োজন কিনা। তিনি বরং বলেছেন, আগের জায়গা থেকে এখানে অনেক ভাল আছেন। শুধু এসির অভাব বোধ করছেন।
ওনার মতামত নিয়ে পছন্দের খাবার পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে, আর আমরা মাস্ক দিব না? উনি যদি মাস্ক চাইতেন, অবশ্যই তা পেতেন। আমরা তো রাস্তায় সাধারণদের মাস্ক বিতরণ করে বেড়াচ্ছি, আর উনি চাইলে মাস্ক পাবেন না এমনটা হয় না। এটা নিছক আমাদের হেয় করার জন্যই বলেছেন।’
