রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অসহায় এক দিনমজুরের পরিবার নিয়ে মাথা গোজার একমাত্র ঘরটি ভেঙে দিয়ে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করেছে প্রভাবশালী এক প্রতিবেশী। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমেধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চর চাদই মধ্যপাড়ায় মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে দিনমজুর সুমনের ঘর ভাঙচুর করছে প্রতিবেশী আবু হানিফ ও তার পরিবারের লোকজন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই টিনের খুপরির মতো দোচালা ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়।
সরেজমিনে গ্রামটিতে গেলে প্রতিবেশীরা জানায়, সুমন (৩৫), স্ত্রী ছালমা খাতুন, প্রতিবন্ধী শিশু পুত্র জায়েদ ও একটি শিশু কন্যা নিয়ে বসবাস করতো। গত ১ বছর যাবৎ প্রতিবেশী আবু হানিফ সুমনের বাড়িটি নিজের বলে দাবি করে আসছিল। এই বিষয় নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার শালিস বেঠকের চেষ্টা করা হলেও সেটা ব্যার্থ হয়। তারা এই ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী সুমন জানায়, শনিবার ঘরে বসে আমার স্ত্রী ছালমা খাতুন প্রতিবন্ধী শিশু সন্তানকে খাবার খাওয়ানোর সময় প্রতিপক্ষের আবু হানিফ, তার ছেলে রবিউল, মকবুল, পুত্রবধু শাহিনুর খাতুন, মিনা খাতুন ও আবু হানিফের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন মিলে আতর্কিতে আমার ঘরে লাঠিসোটা, লোহার রড, দা, শাবল, লোহার পাইপ দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে।
এসময় তাদের বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের উপরেও হামলা চালিয়ে আমার স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী শিশু সন্তানসহ আমাদের আহত করে। এই অবস্থায় পরিবার নিয়ে আমরা খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করছি।
অভিযুক্ত আবু হানিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সুমন যে বাড়িতে বসবাস করে সেই বাড়ি আমি ১ বছর পূর্বে মূল মালিকের কাছ থেকে কিনেছি। সুমন আমার বাড়ির দখল ছাড়ছিল না। এই বিষয়ে আমি শাহজাদপুর থানায় অভিযোগ দিলেও তারা তাদের কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হয়নি। শনিবার উভয়ক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যয়ে এরকম অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে।
উভয়েরই প্রতিবেশী আব্দুল আলিম জানায়, উভয়ই আমার আত্মীয়। আবু হানিফকে আমি এই জায়গা ক্রয় করার পুর্বেই নিষেধ করেছিলাম যে সুমনের পরিবার খুব অসহায়। বিরোধপূর্ণ জায়গা ক্রয় করলে তুমি দখলে যেতে পারবে না। তারপরও আবু হানিফ পেশি শক্তির জোড়ে জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচজার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, এই ঘটনায় উভয় পক্ষই আলাদা দুটি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
