গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত জানালেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে দেশে তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনও চিন্তা-ভাবনা এখনও পর্যন্ত সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

 

সোমবার (২৬ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

 

মালিকরা গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার ব্যাপারে দাবি করেছিল, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা আছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো চিন্তা-ভাবনা এখন পর্যন্ত নেই।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু গার্মেন্টস ও রফতানিমুখী কলকারখানাগুলো বন্ধ রেখেছি, লাখ লাখ শ্রমিক আসা-যাওয়া করতো, সেগুলো কমেছে। এগুলো ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণ আছে, যে কারণে মানুষ বাইরে আসছে। অযৌক্তিক কারণে কেউ বের হলে কিন্তু আইনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

 

এছাড়া হাসপাতাল থেকে শুরু করে জরুরি সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষ বাধাহীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন বলে জানান তিনি।

 

সরকারের দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও অনেকে শিল্পকারখানা চালু রেখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ খুলেছেন বলে শুনেছি। কোনও মালিক আসলেই কারখানা খুলেছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করছি। জানার চেষ্টা করছি কারা খুলছে? যদি কেউ খুলে থাকেন, যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাস্তায় চেকপোস্টে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যখন জানতে চাচ্ছেন, কী কারণে রাস্তায় নেমেছেন, তখন তারা বলছেন— আমার চাকরিতে যেতে হচ্ছে। আসলে এটার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করছি। তারা যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম বলেছে, সেগুলো চেক করার চেষ্টা করছি।’

 

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শিল্প-কারখানা খোলার প্রমাণ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধের কোনও বিকল্প নেই। করোনা যেভাবে ছড়িয়ে গেছে, সে বিষয় নিয়ে আজ কেবিনেটে আলোচনা হয়েছে।’

 

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, এটা (করোনা) যে পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে গেছে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা কঠিনভাবেই তো প্রজ্ঞাপন জারি করেছি। এ ব্রেকটা খুব দরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন আমাদের সংক্রমণ কমানোর জন্য ব্রেক প্রয়োজন। ব্রেকটার জন্য এটাই উপযুক্ত কৌশল, সেটি হচ্ছে বিধি-নিষেধ। সেক্ষেত্রে এটি ৫ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকরীভাবে করার একটি নির্দেশনা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *