নজর২৪ ডেস্ক- কঠোর লকডাউনের মধ্যেই রাস্তায় বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি। পাবলিক পরিবহণ ছাড়া রাস্তায় অবস্থাও এখন অনেকটা স্বাভাবিক। এদিকে ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা চালু রয়েছে। ফলে কর্মজীবী মানুষগুলোকে প্রতিদিন অফিসে ছুটতে হচ্ছে।
কর্মীদের অফিস যাতায়াতের জন্য কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। ভাড়া করা বড় বাসও রয়েছে এ তালিকায়। যাদের অফিসের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই তারা কেউ রিকশা, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ হেঁটে অফিস যাতায়াত করছেন। অবশ্য বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি।
অনেকটা অবাধেই চলছে এসব ব্যক্তিগত গাড়ি। এর সাথে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলেও যাত্রী নিয়ে অবাধে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। যেসব এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে না, সেখানে এসব ব্যক্তিগত গাড়ি, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাচলে কোনো ধরনের বাধা পেতে দেখা যায়নি।
বিমানবন্দর সড়ক। খিলক্ষেতের আগে পুলিশের তল্লাশিচৌকি। গাড়ি ছাড়া হচ্ছে একটা একটা করে। পেছনে দীর্ঘ লাইন। দেখলে মনে হবে স্বাভাবিক দিনের যানজট। কিন্তু চৌকি ছাড়িয়ে সামনের সড়ক ফাঁকা। পুলিশ প্রাইভেট কার দেখছে কিন্তু আটকাচ্ছে না। কিন্তু বাইক পেলেই থামিয়ে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
রামপুরা ডিআইটি রোড দিয়ে কাকরাইলের দিকে এগিয়ে যেতে আর কোথাও চোখে পড়েনি পুলিশের তৎপরতা। রিকশা আর ক্ষণে ক্ষণে প্রাইভেট কার ছাড়া সড়কে চোখে পড়ে মালবাহী পিকআপ ভ্যান। মাঝে মাঝে এম্বুলেন্স। দুই পাশে খাবারের দোকান ছাড়া বাকি সবকিছুই বন্ধ।
ফুটপাতে পথচারীর সংখ্যাও কম নয়। যাদের দেখে শ্রমজীবী বলে মনে হয়। তাদের প্রায় কারও মুখেই মাস্ক নেই। আরও এগিয়ে গুলিস্তানের দিকে এসে দেখা গেল, রিকশার ছড়াছড়ি। মোড়ে মোড়ে তিন চাকার যানটির জটলা। তবে যাত্রী কম।
এই হলো অষ্টম দিনের ঢাকা শহরের সার্বিক পরিস্থিতি। বাইরে আসা নিষেধ। কিন্তু কারও কারও একেবারেই উপায় নেই। পুলিশ বাধা দিচ্ছে—এমন দৃশ্য ২০ কিলোমিটার পথচলায় দেখা যায়নি খুব একটা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, কলেজগেট, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বাবুবাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মৌচাক, কাকরাইল, মতিঝিল ও বাড্ডা ঘুরে দেখা যায়, মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা গত কয়েক দিনের তুলনায় আরও বেড়েছে।
কারওয়ান বাজার এলাকার রিকশাচালক সাব্বির বলেন, ‘গত কয়েক দিনের থেইকা আইজকা ভালোই লোকজন দ্যাখতাছি। আইজকা ভাড়াও ভালো পাইছি। সকাল থেইকা দুপুর পর্যন্ত আমি রাস্তায় আছি। মানুষের কী দোষ? হ্যারা তো কামের লাইগাই বাইরায়।’
লকডাউনের অষ্টম দিনে মানুষ ও গাড়ির সংখ্যা বাড়ার কারণ জানতে চাইলে শান্তিনগর মোড়ের ট্রাফিক পুলিশের কন্সটেবল মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তায় রিকশা বেশি। দুই একটা প্রাইভেট কার আসে। জরুরি হলে ছেড়ে দিই। আর রিকশাকে বাধা দেয়ার কিছু নাই। তাদের তো চলাচলের নিয়ম আছে।’
