নজর২৪ ডেস্ক- কোরবানির ঈদ ও চলমান লকডাউন নিয়ে কঠিন ভাবনায় পড়েছে সরকার। করোনা সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউন ১৪ জুলাইয়ের পর আরও বাড়বে কিনা, অথবা বাড়ানো যৌক্তিক হবে কিনা- তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে। চলছে গভীর পর্যালোচনা।
করোনা সংক্রমণের গতি কোন দিকে- তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণও হচ্ছে। তাই কোরবানির ঈদের সময় দেশে চলমান লকডাউন অব্যাহত থাকবে কিনা, নাকি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে, তা নিয়েও চলছে নানা পর্যায়ে আলোচনা। যদিও সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিরা বলছেন পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র জানিয়েছে, একদিকে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদ, অপরদিকে করোনা মহামারি। রাষ্ট্র কোনটিকে গুরুত্ব দেবে সেই ভাবনায় পড়েছে সরকার। ঈদকে গুরুত্ব দিলে লকডাউন তুলে নিতে হবে, নতুবা ঢিলেঢালা করতে হবে। এতে কারোনা বাড়বে। করোনা বাড়লে জীবন হুমকিতে পড়বে।
অপরদিকে করোনাকে গুরুত্ব দিলে ঈদের আনন্দ ম্লান হবে। সেটি সাধারণ মানুষকে কতটা মানানো যাবে তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ। কারণ, সারা বছর ইটপাথরের এই রাজধানীতে বসবাস করা শ্রমজীবী মানুষগুলো শেকড়ের সন্ধানে, নাড়ির টানে, মাটির টানে গ্রামে যান পরিবার পরিজনের সঙ্গে মিলিত হতে। সাধারণ মানুষের এই যাওয়া যে কোনও কিছু দিয়ে ঠেকানো যায় না রোজার ঈদ তার জলন্ত দৃষ্টান্ত।
করোনা যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে মানুষকে সংক্রমিত করছে, তাতে এবারের কঠোর লকডাউন কোনওভাবে ফেল করলে পরিস্থিতি কেমন হবে তা কল্পনা করতেও গা শিউরে ওঠে। এবারের লকডাউন যদি কোনও কারণে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে- সেটাও একটা বড় চিন্তার বিষয়।
এদিকে সময়ও খুব কম। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী কয়েকটি দিনের মধ্যে। প্রস্তুতিরও একটা বিষয় রয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, মানুষকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এই বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে মানুষ যদি বিধি-নিষেধ মেনে চলে তাহলে সামনে সুফল পাওয়া যাবে। এজন্য আমাদের সবাইকে সরকারি বিধি-নিষেধ মানতে হবে। তবে ১৪ জুলাইয়ের পর বিধি-নিষেধের মেয়াদ বাড়বে কিনা তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র জানিয়েছে, বছরে দুটি উৎসবের একটি কোরবানির ঈদ। এই ঈদকে কেন্দ্র দেশের সমগ্র অর্থনীতি চাঙা হয়। গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙা হয় পশু বেঁচাকেনার ওপর ভিত্তি করে। কাজেই লকডাউন চলমান থাকলে কোরবানির পশু বিক্রির ওপর নির্ভরশীল নির্ভর করা অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
