সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলের বাসার গেটে সন্তান কোলে পুত্রবধূ

নজর২৪ ডেস্ক- সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফের পুত্রবধূ নিলা আরিফ শিশুসন্তান কোলে নিয়ে তিন ঘণ্টা গেটে অপেক্ষা করেও বাসায় ঢুকতে পারেননি। একনজর দেখতেও পাননি তার প্রথম সন্তানের মুখ, যে শিশুকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন নিলা।

 

শনিবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসান আরিফের ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ২৩ নম্বর বাসার সামনে ১২ দিন বয়সী অসুস্থ কন্যাকে নিয়ে অপেক্ষা করেন নিলা। এরপরও কেউ গেটের তালা না খুললে ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।

 

গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে নিলা বলেন, ‘আমার দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে তারা (হাসান আরিফের পরিবার) আটকে রেখেছে। তাকে দেখার জন্যই সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ বাসায় ঢুকতে দেননি। পরে বাসার নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে ইন্টারকমে ১৫ থেকে ২০ বার ফোন করা হয়েছে। তাতেও তাদের মন গলেনি।

 

‘তারা আমার বড় মেয়েকে দেখতে দেননি। আমি বারান্দাতে অনেকক্ষণ তাকিয়েছিলাম একনজর দেখার জন্য। সে ব্যবস্থাও করেননি তারা। দারোয়ান দিয়ে মুখের ওপর না করে দিয়েছেন। পরে ক্যামেরা দেখে একটি ছেলেকে পাঠিয়ে বলেছেন মেয়েকে দেখতে চাইলে কোর্টে যেতে।’

 

তিনি বলেন, ‘প্রথমে বাসার গেটে তালা মেরে রেখেছিলেন। গেটের ভেতরেই ঢুকতে দিচ্ছিলেন না। পরে লোকজন ও ক্যামেরা দেখে ইন্টারকম পর্যন্ত গিয়েছিলাম। তারপরও তারা দেখা দেননি। কন্যাকেও দেখাননি।’

 

নিলা অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা সবাই বাসায়ই আছেন। অথচ পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না।’

 

গত বুধবার রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় স্বামী মোয়াজ আরিফ, শ্বশুর হাসান আরিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন নিলা আরিফ।

 

মামলায় তিনি বলেছেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী মোয়াজ আরিফ, শ্বশুর হাসান আরিফ, শাশুড়ি পারভীন আরিফ ও ননদ উম্মে হানি তার ওপর নির্যাতন করতেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জেল খাটিয়েছেন। তার দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন। নবজাতক দ্বিতীয় কন্যাসন্তান নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।

 

মামলায় তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে আমার পেটে লাথি মেরে তিন মাসের একটা বাচ্চা মেরে ফেলেছেন, যা আমাকে ডিঅ্যান্ডসি করতে হয়েছে। আমাকে নির্যাতন করে চুল কেটে দিয়েছেন। আমার গাড়িসহ সবকিছু আটকে রেখেছেন। আমার সিম, মোবাইল ফোন ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছেন। আমাকে ও আমার দ্বিতীয় কন্যাসন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।’

 

এ বিষয়ে জানতে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। মোয়াজ আরিফের মোবাইলে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়াছিন আলী শনিবার বিকেলে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। প্রধান আসামি মোয়াজ আরিফের বাসায় অভিযান চালিয়েছি। তাকে পাওয়া যায়নি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *