আবূ ত্ব-হার দ্বিতীয় বিয়ে গোপনে, নিখোঁজ হওয়ার আগে জানত না কেউ!

নজর২৪ ডেস্ক- ক্রিকেটার থেকে ধর্মীয় আলোচক বসে যাওয়া আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে তার উধাও হয়ে যাওয়ার পর।

 

তার আগপর্যন্ত ত্ব-হার স্বজন, প্রথম স্ত্রীর পরিবার কিছুই জানতে পারেনি। তার মা আজেদা বেগমও বিয়ের কথাটি জানেননি তাৎক্ষণিক। পরে একটি মাধ্যমে জানার পর আর কাউকে জানাননি।

 

আজেদা তার ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুব একটা পছন্দ করেন না, সেটা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

 

১০ জুন ত্ব-হা ঢাকায় আসার পথে নিখোঁজ হওয়ার দাবি প্রথমে সামনে আনেন তার স্ত্রী পরিচয়ে সাকিবুন্নাহার সারা। তখনও জানা যায়নি তিনি যে দ্বিতীয় স্ত্রী।

 

পরে সারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার স্বামীকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়ে চিঠি দেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন, বেসরকারি টেলিভিশনে দেন দীর্ঘ সাক্ষাৎকার। বিশেষ করে সংবাদ সম্মেলনে তার রাখা আবেগপ্রবণ বক্তব্য ‘ত্ব-হাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন, না হলে তার কাছে আমাকে নিয়ে যান’ পায় বিশেষ গুরুত্ব।

 

সাবিকুন্নাহারের এই সামনে আসায় চমকে ওঠেন ত্ব-হার স্বজন ও পরিবারের লোকজন। পরিবারের অনেকই এই বিয়ের খবর জানতেন না।

 

ত্ব-হার মা আজেদা বেগম বলেন, ‘বিয়ের খবর আমি কিছুদিন পরে পাইছি। আমি শুনেছি ত্ব-হাকে ট্রাপে ফেলানো হয়েছে। খুব মানসিক অ/ত্যা/চার করত, ডিস্টার্ব করত। খুবই অশান্তিতে ছিল ত্ব-হা।’

 

ত্ব-হার মামা আমিনুল ইসলাম (মা-মামা একই বাড়িতে থাকেন) বলেন, ‘আমরা বিয়ের খবর জানতাম না। এই ঘটনার (নিখোঁজ) পর মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি সে বিয়ে করেছে। এর বেশি কিছুই জানি না।’

 

ত্ব-হার প্রথম স্ত্রী আবিদা নূরের বাবা আজহারুল ইসলাম মণ্ডলও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘটনাগুলো হবার পর ফেসবুক আর মানুষের কাছে শুনতেছি যে জামাই ঢাকাত বিয়ে করছে। এর আগে আমি জানি না।’

 

আবিদা নূর বিষয়টি জানে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ও খুব পরহেজগার, কারও সঙ্গে কথা বলে না।’

 

‘আপনি একটু শুনে জানাবেন’- এমন মন্তব্যের পর আজহারুল বলেন, ‘ঠিক আছে।’

 

কিছুক্ষণ পর ফোন করা হলে তিনি বলেন, “বাড়িতে অনেক গেস্ট আছে, মানুষ আছে। আমি মেয়ের কাছে জানতে চাইলাম। বলল, ‘বাবা আমি পরে বিষয়টা তোমাকে বলব’।”

 

আবিদার সঙ্গে ত্ব-হার বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। দেড় মাস আগে আবিদা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এর আগ পর্যন্ত রংপুরের শালবনের চেয়ারম্যানের গলিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন স্বামী-স্ত্রী। তবে এখন আবহাওয়া অফিসের কাছে বাবার বাড়িতে আছেন।

 

ত্ব-হার মা থাকেন নগরীর সেন্ট্রাল রোডে আহলে হাদিস মসজিদের পাশে পারিবারিক বাসভবনে। আর শুক্রবার রাতে আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি ওঠেন মায়ের কাছেই।

 

আরও পড়ুন-

আবু ত্ব-হার কাছে যাবেন না স্ত্রী সাবিকুন্নাহার!

 

নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ইসলামি বক্তা ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের খোঁজ নেই। প্রথমে বিষয়টি জানান দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহারই। থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করার চেষ্টা, সেটি নেয়া হচ্ছে না বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন করে ‘ত্ব-হাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন, না হলে তার কাছে আমাকে নিয়ে যান’ বলে আবেগপ্রবণ বক্তব্য দিলেও স্বামীর খোঁজ পাওয়ার পর তিনি এ প্রসঙ্গে এখন কিছু বলতে রাজি হচ্ছেন না। তার কাছেও এখনই যেতে চাইছেন না।

 

শুক্রবার দুপুরে ত্ব-হা ফিরে আসার পর কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সাবিকুন্নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে গণমাধ্যম। তবে এই চেষ্টাটা সহজ ছিল না।

 

দুপুর থেকে তার ফোনে কখনও কল যাচ্ছিল না, কখনও পাওয়া যায় ব্যস্ত। পরে মিরপুর-১১ নম্বরের ‘এ’ ব্লকের একটি বাসায় যাওয়া হয়। এই বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত ১৪ জুন ত্ব-হাকে উদ্ধারের আবেদন করে চিঠি দেয়া হয়।

 

তবে সেই বাসায় থাকেন না সাবিকুন্নাহার। সেটি নারীদের একটি কওমি মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি পরিচালনা করেন সাবিকুন্নাহার এবং তার বোন। এই মাদ্রাসায় কখনও আসেননি ত্ব-হা। শুক্রবার থাকায় মাদ্রাসাটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মাদ্রাসার কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সেই বাড়ির বাসিন্দা আল-আমিন নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বাড়ির মালিকের ভাই বলে পরিচয় দেন।

 

তিনি জানান, নিচতলার পাঁচটি কক্ষ নিয়ে এই মাদ্রাসা। তিন মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেন সাবিকুন্নাহার।

 

তবে সাবিকুন্নাহারের বাসার ঠিকানা কোনটি, সেটি জানাতে পারেননি আল আমিন। বলেন, ‘কয়েক মাস আগে মাদ্রাসার পাশের গলির একটি বাসায় থাকতেন তারা। কিন্তু এখন অন্য জায়গায় থাকেন। কোথায় সেটি জানি না।’

 

সেখান থেকে চলে এসে সন্ধ্যায় অবশেষে ফোনে কথা হয় ত্ব-হার স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে আপনাদের কাছে কিছু বলতে পারব না।‘

 

ফোনে কথা বলতে না চাইলে বাসায় আসব কি না- এমন প্রশ্নে সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘আমার কথা বলা নিষেধ আছে। আপনারা বোঝার চেষ্টা করেন।’

 

তবে কার নিষেধ, সেটি বলেননি তিনি।

 

ত্ব-হার সঙ্গে দেখা করতে রংপুরে যাবেন কি না- এমন প্রশ্নে তার স্ত্রী বলেন, ‘আমি রংপুর কেন যাব এখন? দেখি কী হয়। বলতে তো পারছি না, ওরা যদি গ্রেপ্তার দেখায় কোনো মামলায়।’

 

উদ্ধার হওয়ার পর ত্ব-হার সঙ্গে কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারছি না।’

 

আপনি বলছিলেন, ত্ব-হা আপনার কাছে আসছে। কিন্তু তিনি তো গেলেন প্রথম স্ত্রীর কাছে। এই মন্তব্যের জবাবে সাবিকুন্নাহার কিছু না বলে চুপ থাকেন।

 

নিখোঁজের ৮ দিনের মাথায় আবু ত্ব-হা শুক্রববার (১৭ জুন) দুপুর ১২টার পরে তার প্রথমপক্ষের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। খবর পেয়ে রংপুরের মাস্টারপাড়া এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে বিকেল ৩টার দিকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

 

বিকেলে ৫টার দিকে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ের ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা ও তার সঙ্গী তিনজন ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন গাইবান্ধার ত্রিমোহনী এলাকায় এক বন্ধুর বাসায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *