চট্টগ্রামে হাসপাতালে হাঁটুপানি

নজর২৪, চট্রগ্রাম- সকাল থেকে ভারী বর্ষণের প্রভাবে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় হাঁটুপানি জমেছে। ফলে বিশেষায়িত এই হাসপাতালে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘ সময়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় নিচতলার রোগীদের হাসপাতালের নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

রোববার (৬ জুন) সকাল থেকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুরের দিকে মা ও শিশু হাসপাতালে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে।

 

হাসপাতালে আসা নাইমুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, টানা বৃষ্টিতে হাসপাতালের নিচতলায় হাঁটু সমান পানি উঠে গেছে। অনেক সাবধানে পা ফেলতে হচ্ছে।

 

বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে আসা সানজিদা নামে এক নারী বলেন, বৃষ্টির মধ্যে অনেক কষ্ট করে হাসপাতালে আসি। হাঁটুপানি মাড়িয়ে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে দেখি নিচতলায়ও পানি। শুনেছি জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে; কই, কী কাজ হলো?

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছরই ভারী বৃষ্টি হলে পানিতে হাসপাতালের নিচতলা তলিয়ে যায়। পানি উঠলে রোগী ও হাসপাতালে আমরা যারা কাজ করি সবারই দুর্ভোগে পড়তে হয়। নিচতলায় ভর্তি থাকা রোগীদের নতুন ভবনে সরিয়ে নিতে হয়েছে। কয়েকবছর ধরে একই সমস্যা দেখছি, সমাধানে কাউকে কোনো কাজ করতে দেখিনি।

 

হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) নুরুল হক বলেন, মাঝারি বৃষ্টিতে পানি নামতে না পেরে হাসপাতাল এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

 

তিনি বলেন, ‘আগ্রাবাদের জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। আমরা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জলাবদ্ধতা নিরসনে বারবার তাগাদা দিয়েছি। বলেছি, আগ্রাবাদ থেকে পানি নামার জন্য মহেশখাল খালটি যেন দখলমুক্ত করা হয়। কিন্তু এখনও মহেশখাল দখলদারকে কবজায়। ফলে বৃষ্টির পানি ঠিকমতো নামতে পারছে না। এ জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

 

হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোরশেদ হোসেন বলেন, সকাল থেকেই প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে, ফলে হাসপাতাল এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানির কারণে আউটডোর নতুন বিল্ডিংয়ে চালু করেছি। আমাদের সেবা কার্যক্রম চালু আছে।

 

এই হাসপাতালকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করার জন্য সিডিএ ও সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *