নজর২৪, ঢাকা- রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সোমবার (০৭ জুন) বেলা ১১টায় খিলগাঁও চৌরাস্তায় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির রাজধানীর মহাসচিবের কার্যালয়ে (মাখজানুল উলুম মাদ্রাসা) প্রেস বিফ্রিংয়ের ডাক দেয়া হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা রাশেদ বিন নূরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ২৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেয় কওমিভিত্তিক সংগঠনটি।
বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকেই এই কমিটির প্রধান করা হয়। আগের কমিটির মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদীকে আহ্বায়ক কমিটির মহাসচিব আর সিনিয়র নামেবে আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে করা হয় প্রধান উপদেষ্টা। সদস্য করা হয়েছে আল্লামা সালাহউদ্দীন নানুপুরী ও মিজানুর রহমানকে (পীরসাহেব দেওনা)।
নতুন কমিটির উদ্যোগের বিষয়ে এখনও কোনো বক্তব্য আসেনি হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীপন্থিদের পক্ষ থেকে। এ পক্ষটি শাহ আহমদ শফীর ছোট ছেলে আনাস মাদানীপন্থি হিসেবে পরিচিত।
মাওলানা রাশেদ বিন নূর বলেন, ‘খিলগাঁও চৌরাস্তায় ওই প্রেসবিফ্রিং থেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। তবে কমিটিতে কারা আসছেন এ বিষয়ে আমি এখনও কিছু জানি না। এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব বলতে পারবেন।’
এ বিষয়ে জানতে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদীকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে হেফাজতের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন কমিটি চূড়ান্ত। এবারের কমিটির আকার হবে ছোট, ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ সদস্যের। কমিটিতে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন এমন নেতাদের রাখা হচ্ছে না। হেফাজতের বর্তমান আহ্বায়ক জুনায়েদ বাবুনগরী যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেন। কমিটি চূড়ান্ত করার আগে সরকারি মহলের মতামত নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
একই সূত্র জানায়, জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির ও নুরুল ইসলাম জেহাদিকে মহাসচিব করে হেফাজতের নতুন কমিটি করা হচ্ছে। তবে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মীর ইদ্রিস ও প্রচার সম্পাদক পদে মহিউদ্দিন রাব্বানীকে রাখা হয়েছে। মীর ইদ্রিস বিলুপ্ত কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব, আর মহিউদ্দিন রাব্বানী কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন।
মহিউদ্দিন রাব্বানী সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁকে প্রচার সম্পাদক পদে রাখা হচ্ছে এমন তথ্য তিনি এখনো জানেন না।
বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জিসহ যাঁরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন, তাঁরা নতুন কমিটিতে পদ পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, নতুন কমিটিতে নায়েবে আমির পদে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা আবদুল হক মোমেনশাহী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী (দেওনার পীর), মাওলানা মুহিবুল হক (গাছবাড়ি), মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসকে (ফরিদাবাদ মাদ্রাসা) রাখা হচ্ছে। যুগ্ম মহাসচিব পদে রাখা হয়েছে মাওলানা সাজেদুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মাওলানা আবদুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মাওলানা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা), মাওলানা আবু তাহের নদভী (পটিয়া) ও মাওলানা মো. ইউসুফ (আহমদ শফীর বড় ছেলে)। এ ছাড়া মহিববুল্লাহ বাবুনগরীকে প্রধান করে একটি উপদেষ্টা কমিটি এবং পৃথক খাস বা বিশেষ কমিটি করা হয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিলে ঘোষিত হেফাজতে ইসলামের আহ্বায়ক কমিটিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শফীপন্থিরা। সংগঠনের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ওই কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ বলে আখ্যায়িত করেন তারা।
হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি এমন এক সময় ঘোষণা করা হচ্ছে, যখন আগে বাবুনগরীপন্থি হিসেবে পরিচিত সংগঠনটির সাবেক নায়েবে আমির ও মধুপুরের পীর আবুদল হামিদ পক্ষ ত্যাগ করে শফীপন্থিদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। গত ২ জুন শফীপন্থিদের এক সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি বাবুনগরীকে গ্রেপ্তার ও আহ্বায়ক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণার দাবির প্রতি একাত্মতা জানান।
এ বিষয়ে সোমবার আনাস মাদানী বলেন, ‘উনারা কমিটি ঘোষণা করুক। তারপর আমাদের বক্তব্য আমরা দেব।’
