নজর২৪ ডেস্ক- আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তারে কারণে লকডাউন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। এ কারণে চলমান লকডাউন কঠোরভাবে সমালোচিত হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ১০ জন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন রেজাউল করিম। তিনি অবশ্য এই সংগঠনের সদস্য নন।
গত ২৬ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব ও ২০১৩ সালের ৫ মের নাশকতার মামলায় হেফাজতের যেসব নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তার মধ্যে সবশেষ সংযোজন মামুনুল হক যিনি গত কয়েক মাসে নানা উত্তেজক বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হয়েছেন।
গত ১১ এপ্রিল ধরা পড়েন হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী। পরদিন গ্রেপ্তার হন কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি ইলিয়াস হামিদী।
১৩ এপ্রিল ধরা পড়েন নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ ও হেফাজতের সহপ্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফউল্লাহ।
১৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজী। একই দিন সহকারী মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীকেও আটক করা হয়। ১৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন হেফাজতের ঢাকা মহানগরের সহসভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ যোবায়ের।
পরদিন ধরা হয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ ও ঢাকা মহানগর শাখার আমির জুনায়েদ আল হাবীবকে। মামুনুলকে গ্রেপ্তার করা হয় বিবৃতি দেয়ার দিন দুপুরে।
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ‘দেশের নিরীহ নিরাপরাধ আলেমদের গ্রেফতার ও হয়রানির কারণে সরকারের চলমান লকডাউন কঠোরভাবে সমালোচিত হয়েছে। যে মুহূর্তে মহামারি প্রকট আকার ধারণ করছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। সর্বত্র মানুষ আতঙ্কিত; এ পরিস্থিতিতে আলেমদের অযথা হয়রানি-নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘দেশে মাদ্রাসা শিক্ষকসহ আলেমদের গণহারে গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর ভাষা নেই। পবিত্র রমজানের শুরুতেই দেশের আলেম ও মাদ্রসা শিক্ষকদের সরকার গণহারে গ্রেফতার করছে ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। সরকারের এই আচরণ অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক।’
মুহাম্মদ রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘গত কয়েকদিনে সারাদেশে শত শত নিরীহ আলেম, শিক্ষক ও ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যেকোনও ইসলামবিরোধী ইস্যুতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিবাদ করা দেশের আলেমদের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের এই দায়িত্ব পালনে বাধা দান ও গ্রেফতার মেনে নেওয়া যায় না।’
