Home দেশের খবর বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কোণঠাসা আওয়ামী লীগ, সুযোগ নিতে পারে নির্দলীয় প্রার্থী

বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কোণঠাসা আওয়ামী লীগ, সুযোগ নিতে পারে নির্দলীয় প্রার্থী

0
106

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কোণঠাসা আওয়ামী লীগ। দলীয় মনোনয়নের বাইরে একাধিক প্রার্থী থাকায় চাপে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী।

 

নৌকার নিয়মিত উঠান বৈঠকের পাশাপাশি চলছে অন্যান্য প্রার্থীর উঠান বৈঠক। নৌকা প্রতীকের বাইরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এমন চার জন মনোনয়ন ফরম দাখিল করেন।

 

আজ বুধবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন থাকলেও কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন নি। তাই বিদ্রোহী প্রার্থী সামলাতেই বেকায়দায় আওয়ামী লীগ। মেয়র পদে দলীয় নির্দলীয় প্রার্থী মিলে মোট নয় জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

 

এর আগে ১০ মার্চ আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি পার্টি অফিসে ৫ জন দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর ১৩ মার্চ স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয়।

 

এর বাইরে আরো ৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ সভাপতি নূর নেওয়াজ ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন নিউটন।

 

বিএনপি প্রথমদিকে কোন প্রার্থীকে সমর্থন দিতে না চাইলেও গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ফরিদুল ইসলাম সরকারকে সমর্থন দেয়া হয়। সেই সাথে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাকখারুল আলম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

 

পৌর নির্বাচনে নতুন মুখ হিসেবে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মাসুদ পারভেজ ও যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ।

 

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তা শাপে বর হতে পারে নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য। দলীয় বিভক্তির সুযোগ নিতে পারে নির্দলীয় প্রার্থীরা।

 

এইদিকে আওয়ামী লীগের গৃহ বিবাদে দ্বিধায় ভুগছেন নেতা কর্মীরা। অনেকেই বলছেন জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক দক্ষতা দুইটি ভিন্ন বিষয়। দলের হাই কমান্ড থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন অনেকেই। সাংগঠনিক দক্ষতা থাকলেও জনসম্পৃক্ত প্রার্থীরা এগিয়ে থাকবেন নির্বাচনে বিশ্বাস তাদের।

 

সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্দলীয় প্রার্থী নিয়েও রয়েছে সমান ভাবনা। ভোটাররা ক্লিন ইমেজ আর তরুণ প্রার্থীকে প্রাধান্য দিলে নির্দলীয় প্রার্থীর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে আলোচনায়। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটাররা শেষ পর্যন্ত নির্দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

 

বিএনপি থেকে প্রথম দিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু তোরাব সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। তার পরিবর্তে ফরিদুল ইসলাম সরকারকে দলীয় সমর্থন দেয়া হয়। আবু তোরাব সরকার নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপি থেকে হেভিওয়েট প্রার্থী আর কেউ থাকছেন না বলে অভিমত সাধারণ মানুষের।

 

তবে নির্বাচনের এই সমীকরণে কে দেবীগঞ্জের প্রথম পৌর পিতা হচ্ছেন তা জানা যাবে ১১ এপ্রিলের নির্বাচনে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দের পর আরো সরগরম হবে নির্বাচনী মাঠ। পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দিবেন পৌরবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here