ওবায়দুল কাদের বলেন ‘তুই আমার পদ খাইবি’: কাদের মির্জা

নজর২৪ ডেস্ক- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যোগদানের কথা ছিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। কিন্তু তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।

 

এ কারণে তাঁর প্রতি তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন তাঁর ছোট ভাই ও নবনির্বাচিত মেয়র। তিনি বলেছেন, ‘ভার্চ্যুয়াল প্রোগ্রাম দিয়ে যাঁরা আসেননি, তাঁরা অপরাজনীতির কাছে মাথা নত করেছেন। অপরাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণকে ঘৃণা করি।’

 

তিনি ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে টেলিফোন আলাপের বরাত দিতে বলেন, ওবায়দুল কাদের আমাকে বলেন– তুই আমার পদ খাবি নাকি?

 

বুধবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জের সরকারি মুজিব কলেজ মাঠে এই নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল ওবায়দুল কাদেরকে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন।

 

অনুষ্ঠানে কাদের মির্জা বলেন, ‘আমার প্রয়োজন নেই কোনো ক্ষমতার। দল থেকে বহিষ্কার করবেন? করে দেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর কথা বলব, শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা বলব। স্বাধীনতার কথা বলব। অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলব।’

 

তিনি সংসদ সদস্য একরাম চৌধুরীর সমালোচনা করে বলেন, আমরা একরাম চৌধুরীর মতো নয় যে, নিজের সন্তানের হাতে অস্ত্র তুলে দেব। যেদিন আমার সন্তান অস্ত্র হাতে নেবে, সেদিন যেন আমার মৃত্যু হয়। তিনি একরাম চৌধুরীর ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমার বাবা আমার ছোট, তুমি আমার ছেলের মতো। তোমার বাবার মুখের কথা– তুমি বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষিত, চেহারাও ভালো, তুমি তোমার অস্ত্র ফেলে দিয়ে শান্তির রাজনীতিতে এসো। কথা দিলাম আমরা তোমাকে সহযোগিতা করব।

 

আবদুল কাদের মির্জা সেতুমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় মন্ত্রী বলেছিলেন– ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন। আমার ছেলেমেয়েদের সেই চাকরি কই? তিনি বলেন, অন্তত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৫০০ ও কবিরহাট উপজেলায় ৫০০ ছেলেমেয়ের চাকরি যদি না হয়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলব। গ্যাস দেবেন বলেছেন, কোন ষড়যন্ত্রে গ্যাস আসেনি তা জানি।

 

একরাম চৌধুরী আমার গ্যাসফিল্ডের নামটা পর্যন্ত নিয়ে গেছে। গ্যাস পাওয়া গেছে কোম্পানীগঞ্জের শাহজাদপুরে; আর নাম দেওয়া হয়েছে কবিরহাটের সুন্দলপুরে। এসব বললে তিনি (ওবায়দুল কাদের) নাকি অসুস্থ, অসুস্থ হলে অপশক্তির কাছে মাথানত করেন কীভাবে? মন্ত্রীর (ওবায়দুল কাদের) কাছে লোকজন কোনো অভিযোগ নিয়ে যেতে পারে না উল্লেখ করে কাদের মির্জা বলেন, একরাম চৌধুরীর চামচারা সবসময় মন্ত্রীকে ঘিরে রাখে।

 

কাদের মির্জা আরও বলেন, বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছেন? বহিষ্কার করবেন, বহিষ্কার করলেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জয়গান ও শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা বলব। গ্রেফতার করবেন? ১৯৮২ সাল থেকে জেল খেটে আসছি। এখন যারা ষড়যন্ত্র করেন, তখন তো তারা মায়ের পেটে ছিলেন।

 

আবদুল কাদের মির্জা প্রশ্ন রেখে বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব, আপনি কীভাবে স্যারেন্ডার করলেন, কীভাবে আত্মসমর্থন করলেন? আমার আব্বা কি রাজাকার ছিল? ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনার আব্বা মোশারফ হোসেন রাজাকার নয়, তিনি বসুরহাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আর যারা আমার পরিবারকে নিয়ে রাজাকার বলছেন, তাদের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *