নজর২৪ ডেস্ক- ‘আপনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, আমি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। আপনি-আমি যুদ্ধ করলে, গিবত গাইলে জনগণের উন্নয়ন হবে না। আপনার-আমার যুদ্ধ করার কী দরকার? আগামীতে যে উন্নয়ন করার যোগ্য, তাঁকেই নেত্রী নৌকা দেবেন।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সাংসদ কাজী জাফরউল্যার উদ্দেশে যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ওই আসনের বর্তমান সাংসদ মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরী বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নিক্সন চৌধুরী যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হওয়ায় ভাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে ভাঙ্গা বাজার স্বর্ণকারপট্টিতে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কাজী জাফরউল্যার উদ্দেশে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে যুবলীগের পদ দিয়ে মূল্যায়ন করেছেন। এখন গিবত গাওয়ার সময় নাই। যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, তখন গিবত গাইছি। এখন এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার সময়। আপনি মুরব্বি হিসেবে এলে আমি আপনাকে গ্রহণ করে নেব।’
যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, তখন গিবত গাইছি। এখন এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার সময়। আপনি মুরব্বি হিসেবে এলে আমি আপনাকে গ্রহণ করে নেব।
নিক্সন চৌধুরী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আর হানাহানি নয়, গিবত নয়। ৪০ বছরের অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন করতে হবে। দুবার এলাকাবাসী আমাকে নির্বাচিত করেছেন।’
ওই সভায় উপস্থিত ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী হেদায়েতউল্লাহ সাকলাইনের (কাজী জাফরউল্যার চাচাতো ভাই) উদ্দেশে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘মঞ্চে উপস্থিত স্বনামধন্য কাজী পরিবারের সন্তান হেদায়েতউল্লাহ সাকলাইন এবং সাহাদাতের (ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান) হাত ধরে ২০১৪ সালে আমার ভাঙ্গার মাটিতে রাজনীতিতে আগমন। যদিও আমার চুল-দাড়িতে পাক ধরেছে, তারপরও আমার বয়স কম। জোরে কথা বলি বলে আমার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয় বেশি।’
২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী জাফরউল্যাকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন নিক্সন চৌধুরী। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও একই ফলাফল হয়। স্বতন্ত্র সাংসদ হয়েও গত ১৪ নভেম্বর নিক্সন যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সাল থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত সাংসদ নিক্সন কাজী জাফরউল্যাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বক্তব্য দিতেন। আজই কাজী জাফরউল্যা সম্পর্কে তাঁর এ নতুন উপলব্ধি প্রকাশ পেল।
সাংসদ বলেন, ‘ভাঙ্গার কাঠপট্টিতে দোকান বরাদ্দের নামে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়েছে। চোরদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কয়েকজন এ টাকার দুর্নীতি করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বদলি হয়ে গেছেন। আর যাঁরা আছেন, তাঁরা তেঁতুলের বিচি হয়ে রয়েছেন। যাঁরা এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাঁদের মধ্যে আমার পক্ষের ও বিপক্ষের লোকও আছে। দুর্নীতির চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিয়ে দিন। একদিন এ দুর্নীতির বিচার হবে দিনের আলোতেই।’
সাংসদ বলেন, ‘ভাঙ্গা পৌরসভায় ঢুকলেই মনে হয় বস্তিতে ঢুকেছি। এ বাজারের মধ্যে দিয়ে এলজিইডির একটি সড়ক হয়েছে। সেই সড়ক যেনতেনভাবে করা হয়েছে। ফরিদপুরের রাক্ষসরা ওই সড়কের টাকা খেয়ে ফেলেছে। ফরিদপুরের ওই রাক্ষসদের (আলোচিত দুই ভাই বরকত ও রুবেল) বিচার হচ্ছে কিন্তু যেসব সরকারি কর্মকর্তা ওই রাক্ষসদের সাহায্য করেছে তাঁদের বিচার কে করবে?’
