নজর২৪ ডেস্ক: জামালপুর জেলায় দুইটি অন্যতম প্রধান নদী যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র প্রবাহিত, এই নদ নদীর ধারে রয়েছে বিশাল চরাঞ্চল। এ বছর বিস্তীর্ণ এই চরাঞ্চলে সরিষার চাষ হয়েছে ব্যপক ভাবে। গত বর্ষা মৌসুমে চার দফা বন্যায় আমন ধান ও পাটসহ অন্যান্য ফসল হারানোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন সরিষা চাষে।
বন্যায় চরাঞ্চলের জমিতে পলি জমায় সরিষার ফলনও হয়েছে ভালো। শেষ পর্যন্ত বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে বিশ্বাস কৃষকদের। হলুদ সরিষার ফুলে ভরে গেছে জামালপুরের দিগন্তজোড়া ফসলি জমি।
সদর উপজেলার তুলশীরচর ইউনিয়নের টিকারাকান্দি, রানাগাছা ইউনিয়নের নান্দিনা, চর গোবিন্দবাড়ী, লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের বারুয়ামারী ও চর যথার্থপুর, জামালপুর পৌরসভার পাথালীয়া, নাওভাংগা ও নরুন্দি ইউনিয়নের টেবির চরসহ জেলার ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই নদের তীরবর্তী এলাকায় এবার সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে।
এই এলাকার কৃষক শহিদুল হক, চাঁন মিয়া, বেলাল উদ্দিন, শাহজাহান মিয়া ও ফজলুল হক ও ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, আবাদ ভালো হওয়ায় ভালো দাম পেলে বন্যার ক্ষতি আমরা অনেকটাই পুষিয়ে নিতে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যায় জমিতে পলি জমায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা তাদের।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাকিয়া সুলতানা জানান, এ বছর জামালপুরের সাত উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। আবাদের অগ্রগতি হয়েছে ২১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। উফশী ও টোরিস-৭ জাতের সরিষা আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় বন্যার ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা।
