নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেছেন, মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের দমন করা যাবে না।
তিনি বলেন, মাঠের রাজনীতিতে আমরা শক্তিশালী সংগঠন বা দল এক্ষেত্রে হয়তো আমাদের কোণঠাসা করার জন্য কিংবা দমন-পীড়ন করার জন্য নতুন ফন্দি বা রাস্তা তারা তৈরি করেছে। এসব মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের দমন করা যাবে না। আমাদের কার্যক্রম গতানুগতিকভাবে চলছে চলবে।
রোববার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম আদালতে নূরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করা হয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।
নুর বলেন, সরকার নানা কারণে ভীত-সন্ত্রস্ত্র। কারণ তারা এতদিন রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতা ধরে রেখেছে অগণতান্ত্রিকভাবে। এখন রাজপথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন বিরোধী সংগঠনের আন্দোলন সংগ্রাম হচ্ছে। দেশের মধ্যে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে আমাদের যে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা বিদেশি সংস্থা বা দাতা রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে সরকারকে চাপ দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম আদালতে নুরুল হকের নুরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল। মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনসহ ছাত্রলীগের ৬ জন নেতাকর্মীকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগে মামলার বাদী রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে নুর তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে ফেসবুক লাইভে এসে সরকার ও সরকারের সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, ভীতি প্রদর্শক তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করেন।
সরকারের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে বেহুদা কমিশন, বাংলাদেশের বৈধ নির্বাচিত সরকারকে বারবার অবৈধ অর্নিবাচিত সরকার বলে আখ্যায়িত করেছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শবিরোধী ও ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। তার এমন মিথ্যা বক্তব্যের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি করেছে।’
এছাড়া মামলার বাদী রুবেলকে মাদকাসক্ত ও ফেনসিডিল ব্যবসায়ী বলে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। রুবেল বলেন, ‘আমি মনে করি, নুর বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র সম্পর্কে মিথ্যা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল এবং অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর মানসে আক্রমণাত্মক মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে আমার মানহানি করেছেন। আমি মামলার আসামি নুরের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
