তৌফিকুর রহমান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: যমুনা নদীর ভাঙ্গনে হারিয়ে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বসতবাড়ি ফসলি জমি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ভাঙ্গন প্রতিরোধে উদ্যোগ নেয়ার দাবিতে ভূঞাপুর- বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়া পাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া মানববন্ধন চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। মানববন্ধনে দাবি আদায়ের স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও এলাকার নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেন।
এ সময় জনতা প্রায় ২ ঘণ্টা ভূঞাপুর- বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে বাস-ট্রাকসহ কয়েক শ’ যানের জট লাগে।
বক্তারা জানান, যমুনা নদীর ভাঙনে ভূঞাপুর উপজেলার চিতুলিয়া পাড়া, খানুরবাড়ি,কষ্টাপাড়াসহ ২০ এলাকার অনেকের বাড়িঘর বিলীন হয়েছে, হুমকির মুখে পড়েছে আরও শত শত বসতবাড়ি। কোথাও কোথাও নদী ভাঙতে ভাঙতে ভূঞাপুর- বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের ১০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। ভূঞাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে এ মহাসড়ক দিয়েই।
এদিকে ঢাকা টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে কোন দূর্ঘটনা জনিত কারনে অথবা গাড়ীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে, যানজট এড়াতে প্রায়ই ভূঞাপুর- বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক মহাসড়কটি ব্যবহার করা হয়। এই মহাসড়কটি ভেঙে গেলে একদিকে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ গামী যানবাহন এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।অপরদিকে, ভূঞাপুরের সাথে বঙ্গবন্ধু সেতুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তবে ভাঙন প্রতিরোধে এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জায়গায় বালির বস্তা ফেলেছে।
স্থানীয়রা জানান, ‘তারা যেখান থেকে অনৈতিক সুবিধা পায় সেখানেই শুধু বালির বস্তা ফেলে। কৃষকের ফসলের ক্ষেত, বাড়ি ঘর যেখানে নদীতে চলে যাচ্ছে, সেখানে তারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাই স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলার দাবি তোলেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, ভাঙ্গন ঠেকাতে যে এলাকার মানুষ সড়ক অবরোধ করছিলো সে এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছে তাদের তালিকা করে পূণর্বাসন করা হবে।
এসএইচ
