সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর: গত দু’দিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে রয়েছে ভারতীয় নাগরিক মনিরুল মোল্লা’র লাশ। শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াতে এসে মৃত্যুবরণ করেছেন মনিরুল। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে লাশ নেয়ার জন্য ভারত থেকে আসতে পারেনি মনিরুলের পরিবার।
গঙ্গাচড়া থানা সূত্রে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার দক্ষিণ কালশুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্লার ছেলে মনিরুল মোল্লা ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করতেন। দু’বছর আগে সেখানে পরিচয় হয় গঙ্গাচড়া উপজেলার ধামুর বোল্লারপাড় গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে মোকাররমা খাতুনের সাথে। ২০২১ সালে তারা দু’জন বাংলাদেশী নাগরিক পরিচয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হলফনামার মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর মনিরুল ভারতের চলে যান। গত মাসে স্ত্রীকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি শ্বশুরবাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর বোল্লারপাড় গ্রামে আসেন। ঈদের পরের দিন রবিবার মনিরুল বুকে ব্যাথা অনুভব করলে তাকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশ লাশটি ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এবং ভারতীয় হাই কমিশন ও তার পরিবারকে খবর দেয়। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পরিবারের সদস্যরা লাশ নিতে না আসায় গত দু’দিন ধরে মনিরুল মোল্লা’র লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে রয়েছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, মনিরুল মোল্লা’র মৃত্যুর ঘটনায় গঙ্গাচড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মৃত্যুটি সন্দেহ প্রবণ হওয়ায় আমরা ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছিলাম। বর্তমানে লাশটি হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে। তারা ভারতে যোগাযোগ করে লাশটি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। এছাড়া মোবাইল ফোনে মনিরুল মোল্লার পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। তার বাবা লাশ নিতে আসবেন। পাসপোর্ট থাকলেও ভিসা না থাকায় তিনি বাংলাদেশে আসতে পারছেন না।
এসএইচ
