নজর২৪, ঢাকা- জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে ‘প্রেম’ করে আওয়ামী লীগ তিনবার ক্ষমতায় গেছে। তাদের সঙ্গে আর প্রেম নেই। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে।
শনিবার (০৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্ধিত সভায় এভাবেই ক্ষোভের কথা বলেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।
সভার উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন জাপার চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। প্রয়োজন ছাড়াই তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এই অজুহাতে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন তো তেলের দাম কমছে। কিন্তু দাম কমানো হচ্ছে না কেন? এর আগেও তেলের দাম বিশ্ববাজারে খুবই কম ছিল, তখনো তেলের দাম কমানো হয়নি।’
তেলের দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে সরকারের অনেকে পাচার হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করছেন। এ প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, ‘জ্বালানি তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয়। ট্যাংকার বা পাইপলাইন ছাড়া তেল পাচার করা অসম্ভব। কোনো দেশেই জ্বালানি তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম প্রতি লিটার ৭ টাকা রেখেছিলেন। এখন সেই ডিজেলের দাম ৮০ টাকা।’
তিনি আরও বলেন, সরকার যতটুকু ভাড়া বাড়িয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা তার চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করে। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে তাদের পথে নামিয়ে দেওয়া হয়।
কোনো ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল দিচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে কারও নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হচ্ছে না।
সভায় বক্তৃতাকালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে আর কোনো প্রেম নেই। আমাদের সঙ্গে প্রেম করে আওয়ামী লীগ তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে। এখন আমাদের ওপর নি র্যাতন করছে। আর কোনো জোট নয়, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করবে।’
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগের পাশে থেকেছে তাদের ওপরই এখন হামলা করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ওপর হামলা করছে তারা। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের মাঠ থেকে উঠিয়ে দিতে চাইছে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন প্রমুখ।
