নজর২৪ ডেস্ক- সব ধরনের পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ঢাকা রাইড শেয়ারিং ড্রাইভারস ইউনিয়ন।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বলা হয়, রাইড শেয়ারের চালকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
মানববন্ধনে ঘোষণা দেওয়া হয়, দাবির ব্যাপারে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। তারপরও দাবি আদায় না হলে আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন রাইড শেয়ারের চালকেরা।
গতকাল সোমবার রাজধানীর বাড্ডায় শওকত আলী নামের এক রাইডার তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তার আগে ট্রাফিক সার্জেন্ট এসে শওকতের কাগজপত্র নিয়ে যান। মামলা না দেওয়ার জন্য শওকত পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন। তিনি গাড়ির কাগজপত্র ফেরত চান। কিন্তু কাগজপত্র ফেরত না পেয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দেন শওকত।
এ ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেয় অ্যাপভিত্তিক ড্রাইভারস ইউনিয়ন অব বাংলাদেশ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন রাইড শেয়ারের চালকেরা। মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি জানান ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপসনির্ভর শ্রমিকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, কর্ম-সময়ের মূল্য দেওয়া, সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা, মিথ্যা অজুহাতে কর্মহীন করা বন্ধ করা। পাশাপাশি পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ, তালিকাভুক্ত রাইড শেয়ারকারী যানবাহনকে গণপরিবহনের আওতায় নিয়ে আগাম কর কেটে রাখা বন্ধের দাবি জানানো হয়।
প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টায় মানববন্ধন শুরু হয়। কর্মসূচি চলে তিন ঘণ্টা। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাইড শেয়ারের চালকেরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম এবং সিলেটেও এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বলা হয়, রাইড শেয়ারের চালকের বাইক পুড়িয়ে ফেলা তাঁরা সমর্থন করেন না। কিন্তু কোনো বাইকার কোন পরিস্থিতিতে এমন কাজ করতে বাধ্য হলেন, তা সরকারকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাইকাররা বলেন, তাঁদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। উবারসহ বিভিন্ন কোম্পানি তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা বেশির ভাগ টাকা কেটে নিচ্ছে। ফলে বাইকারদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এক চালক বলেন, ২৫ শতাংশ টাকা কাটার পরে আমাদের কাছে যে টাকা থাকে সেই টাকা দিয়ে আমরা বর্তমানে কোনোভাবেই স্বস্তিতে থাকতে পারছি না।
মানববন্ধনে চালকরা বলেন, সকল প্রকার রাইডে ১০ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ করুন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেল রাখার জায়গা নির্ধারণ করে দিন।
অ্যাপ কোম্পানিগুলো শোষণ করছে বলেও অভিযোগ তাদের। সঙ্গে আছে পুলিশি হয়রানি ও বিআরটিএর ভোগান্তি।
ক্ষুব্ধ এক চালক বলেন, পুলিশের কাজ হচ্ছে বিআরটিএ’র সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য যে আপনারা কেন কার্ড দিচ্ছেন না। আমাদের যদি কার্ড ছাড়া না চলতে দেয় তাহলে বিআরটিএ-কে বলুক। এটা তো আমাদের দোষ না।
আরেক চালক বলেন, যদি আমার গাড়ি প্রাইভেট চলে আর আমি যদি নিজে ব্যবহার করি তাহলে বছরে আমাকে ট্যাক্স দেওয়া লাগে ৩১ হাজার টাকা। আর যারা উবার-পাঠাও চালায় তাদের দেওয়া লাগে ৪৩ হাজার টাকা।
সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত চালকদের কর্মবিরতি চলছে।
