নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনির গাড়িচালক ছিলেন নাজির হোসেন। থাকেন রাজধানীর করাইলে। দুই মাস আগে নাজির হোসেন পরীমনির গাড়িচালক হিসেবে নিয়োগ পান। পরীমনির টয়োটা হ্যারিয়ার (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৫-৯৬৫৩) চালাতেন তিনি।
নাজিরের বেতন ১৮ হাজার টাকা হলেও তিনি পেতেন ১৫ হাজার টাকা। বেতনের বাকি তিন হাজার টাকা মেরে দিতেন পরীমনির কথিত মামা আশরাফুল ইসলাম দীপু। এমনকি ঈদের বোনাস হিসেবে পরীমনি তাকে পাঁচ হাজার টাকা দিলেও দীপু সেখান থেকেও আত্মসাৎ করেন।
আরও পড়ুন-
পরীমনিকে ‘গাড়ি উপহার’: মুখ খুললেন সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ: অনেকের নাম ফাঁস করে দিয়েছেন পরীমনি
পরীমনির পৃষ্ঠপোষকদের বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে না কেন পুলিশ: কাজী হায়াৎ
পরীমনির কাছ থেকে টাকা নিয়ে গাড়িচালককে নিজ হাতে বেতন দিতেন দীপু। টাকার বিষয়ে সরাসরি পরীমনির সঙ্গে কথা বললে নাজিরের চাকরি খাওয়ার হুমকি দেন দীপু। চাকরি হারানোর ভয়ে নাজির সরাসরি পরীমনিকে কিছু বলতেও পারতেন না।
গত বুধবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে আলোচিত নায়িকা পরীমনি ও তার কথিত মামা মো. আশরাফুল ইসলাম দীপুকে গ্রেফতার করেন র্যাবের গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। পরদিন বনানী থানায় পরীমনি ও দীপুর বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে র্যাব। নাজিরের বেতন ১৮ হাজার টাকা হলেও এতদিন জানতেন না তিনি। তবে আটকের পর তিনি জানতে পারেন তার বেতন ছিল ১৮ হাজার।
সম্প্রতি এক অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিবেদকের সঙ্গে পরীমনির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় তার গাড়িচালক নাজির হোসেনের সঙ্গে।
নাজির হোসেন বলেন, ‘গুলশানের অল ক্লাবে ছিল ডিউটির প্রথম রাত। এর পরদিন রাতে ডিউটি ছিল বোট ক্লাবে। আমার সামনে অনেক কিছুই পরীমনি ম্যাডাম করেছেন যা আমি দেখেছি। দুই মাস আগে পরীমনির আগের গাড়িচালক বিদেশ চলে যাওয়ার কারণে আমি নিয়োগ পাই।
ভেবেছিলাম নায়িকার গাড়ি চালাবো। এটা কয়জনের ভাগ্যে জোটে। বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বেশিই ভেবেছিলাম। কিন্তু ১৫ হাজার টাকা বেতন পেলেও মনে কষ্ট ছিল না। টাকার কথা না ভেবে নায়িকার গাড়ি চালাচ্ছি এটাই অনেক বড় কিছু মনে করতাম।’
তিনি বলেন, ‘প্রথম মাসে বেতন পেয়েছিলাম ১৫ হাজার টাকা। এরপর ঈদের আগে দুই হাজার টাকা বোনাস দেন দীপু। ঈদে যদি মাত্র দুই হাজার টাকা বোনাস দেয় তাহলে পরিবার নিয়ে ঈদ করব কীভাবে? এ কারণে দীপুর কাছে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘এত কম বোনাস কেন স্যার? জবাবে দীপু বলেছিলেন, বেশি কথা বইলো না, বেতন-বোনাসের কথা পরীমনির কাছে বললে তোমার চাকরি থাকবে না। এরপর থেকেই সন্দেহ হয় দীপুর বিষয়ে।’ এ ছাড়াও এক মাসের বেতন এখনো পাননি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘করোনার সময় এমনিতেই অনেক চালকের চাকরি নেই। তাই চাকরি হারানোর ভয়ে পরীমনির কাছে বেতন-বোনাসের কোনোকিছুই জিজ্ঞাসা করি না। এ ছাড়াও দীপু আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, আগামী ৬ মাস ১৫ হাজার করে দেবেন পরীমনি, ৬ মাস পর বেতন বাড়ানো হবে।’
পরীমনি জামিনের পর তার গাড়ি পুনরায় চালাবেন কিনা- জানতে চাইলে চালক নাজির জানিয়ে দিলেন এই ঘটনায় তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। শুধু পরীমনিই নয়, আর কোনো নায়ক-নায়িকার গাড়িই না চালানোর ঘোষণা দেন তিনি।
নাজির বলেন, ‘পরীমনির গাড়ি আর চালাবো না। শুধু পরীমনিই নয়, আর কোনো নায়ক-নায়িকার গাড়িই চালাবো না। বেতন কম পাই তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু সম্মান ও ঝামেলামুক্তভাবে চাকরি করতে চাই।’
আরও পড়ুন-
টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়তে পারেননি পরীমনি, পেয়েছিলেন বৃত্তি
ঢাকাই চলচ্চিত্রে এ সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি। এক সময়ে টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়তে পারেননি তিনি। তারপরও পঞ্চম শ্রেণিতে পেয়েছিলেন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। ছাত্রী হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন বলেই জানিয়েছে সূত্র।
জানা গেছে, ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সিংখালী গ্রামের নানা বাড়িতে বড় হয়েছেন পরীমনি। তার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে নানা বাড়িতেই। মাধ্যমিকে লেখাপড়া করেছেন ভগিরথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয় একজন ইউপি মেম্বার জানান, পরীমনি এক সময়ে টাকার অভাবে কোনো প্রাইভেট পড়তে পারেননি। তারপরও তিনি ভগিরাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। সেখান থেকে ২০১১ সালে এসএসসি পাশ করেন।
পরে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি হলেও বরিশালে থাকা খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। সেখানে ২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তাদের বিচ্ছেদ হয়।
স্থানীয়রা জানান, উচ্ছৃঙ্খল জীবনের কারণে খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ডিভোর্স হয় পরীমনির। তবে অভিনেত্রীর স্বজনদের দাবি, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে পরীমনিকে।
একটি সূত্র জানায়, অভাবের সংসারে জীবিকার টানে ঢাকা ছুটে এসেছিলেন পরীমনি। পরে তিনি চিত্রজগতে প্রবেশ করেন।
উল্লেখ্য, নব্বই এর দশকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ভগিরথপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন মনিরুল ইসলাম নামের এক কনস্টেবল। তার বাড়ি ছিল নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সালাবাদ ইউনিয়নের বাকা গ্রামে। দেখতে সুদর্শন হওয়ায় তিনি সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেলতে পারতেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ফাঁড়ির পার্শ্ববর্তী সিংখালী গ্রামের বাসিন্দা সামছুল হক গাজীর বড় মেয়ে সালমা সুলতানার সঙ্গে মনিরুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এই সুলতানা-মনিরুল দম্পতির পরিবারের জন্ম হয় শামছুন্নাহার স্মৃতির। যিনি এখন পরীমনি নামে পরিচিত।
