রাজিব মজুমদার, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কবলে পড়ে মীরসরাই বঙ্গোপসাগর উপকূলের সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু তোলার ড্রেজার ডুবে আট শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছে।
সোমবার রাতে উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের ৩ নম্বর জেটি বসুন্ধরা এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল উদ্ধার তৎপরতা চালালেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা) কোন নিখোঁজের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিকরা হলেন- ড্রেজার চালক ইমাম মোল্লা (৩২), ড্রেজার শ্রমিক শাহীন মোল্লা (৩৮), মাহমুদ মোল্লা (৩২), আলামিন (২১), তারেক, আবুল বশরসহ (৪৫) অজ্ঞাত আরো দু’জন নিখোঁজ হন। নিখোঁজ সকল শ্রমিকের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার জৈনকাঠি মোল্লাবাড়ি থানায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে মীরসরাই ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। সাথে যুক্ত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। দিনভর অভিযান চালিয়েও সন্ধ্যা নাগাদ প্রায় ২২ ঘন্টা অতিক্রম হলেও কোন নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান পায়নি।
এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিন সৈকত-২ পানিতে ভেসে গিয়ে শ্রমিক ভর্তি ড্রেজারটি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তান্ডবে ডুবে নিখোঁজ হয়।
দুর্ঘটনার পূর্বে ড্রেজারে থাকা শ্রমিক আব্দুস সালাম বলেন, ‘ড্রেজারে আমিসহ নয়জন শ্রমিক ছিলাম। দুর্যোগের কথা শুনে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমি ড্রেজার থেকে নিচে স্থলভাগে চলে আসি। বাকিরা ড্রেজারেই অবস্থান করছিলো। পরে ঝড়ো হাওয়ায় ড্রেজারটি ভেসে সাগরে ডুবে যায়। এতে সবাই নিখোঁজ হয়।
ড্রেজার ম্যানেজার রেজাউল করিম জানান, ঘটনাস্থলে আরো ছয়টি ড্রেজার রাখা ছিল। সতর্কতা সংকেত পেয়ে অপরাপর সকল শ্রমিক নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও দুর্ঘটনায় পতিত ড্রেজারের আট শ্রমিক আসেনি। শ্রমিকরা দিন-রাত ড্রেজারে অবস্থান করে থাকে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের ব্যবস্থা রয়েছে।
সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ড্রেজারে থাকা শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনেছি। সোমবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক অবস্থানে চলে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।
মীরসরাই ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারি বলেন, ‘মঙ্গলবার ডুবুরি দল নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এখনো পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের মোকাবেলায় আমরা সকল সর্তকর্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কিন্তু দুর্ঘটনায় যারা পতিত হয়েছে তারা সতর্কবাণী পেয়েও নিরাপদ আশ্রয়ে না আসায় এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
