দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মিজানুর রহমান। তিনি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার ভারত সীমান্তবর্তী বাগান বাজার ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা।
দীর্ঘদিন ধরে তিন অবুঝ সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে কোনরকম খেয়ে না খেয়ে দিনানিপাত করছেন। পরিবারের সদস্যদের মুখের আহার তুলে দিতে বাধ্য হয়ে নেমেছেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। সারাদিন বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে মানুষের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়েই চলে তার সংসারের চাকা।
মিজান কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটা ঘর পেয়েছেন। এখন আর অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে না। তার মাথাগোঁজার একটা ঠিকানা হয়েছে। তবে তার অনেক ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের সাথে একটা ছোটখাটো মুদি দোকান করা। স্বামী-স্ত্রী দু’জন মিলে একটা দোকান, সাথে একটা গরু পুষতে পারলে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটা সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারতেন তিনি।
এবার মিজানের এই ইচ্ছা পূরণে তার পাশে দাঁড়ালেন আন্তর্জাতিক কোল এনার্জি কোম্পানি জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মেহেদি হাসান বিপ্লব।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ব্যক্তির পোস্টে মিজানের ইচ্ছার কথা জানতে পেরে সম্প্রতি মিজান দম্পতিকে একটি গরু উপহার দেন ফটিকছড়ির কৃতিসন্তান মেহেদি হাসান। শুধু তাই নয়, ওই পরিবারকে একটি মুদি দোকানও করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
জানতে চাইলে তরুণ ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বিপ্লব বলেন, ‘আমি আসলে একজন অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। মিজানের ইচ্ছার বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখেছি। মনে হলো, আমার উপহার পেয়ে যদি তাঁর কিছুটা সহযোগিতা হয়, এই ভেবে আমি তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমার পক্ষ থেকে মিজান দম্পতিকে একটি গরু উপহার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জন্য একটি মুদি দোকান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যার কাজ চলমান। খুব শিগগিরই তাকে দোকানটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
ভবিষ্যতেও সমাজের অসহায় মানুষের জন্য অনুরূপ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত এই ব্যবসায়ী।
এদিকে গরু উপহার পেয়ে মিজান বলেন, মেহেদি হাসান বিপ্লবের মতো মানুষ দেশের প্রতিটা গ্রামে অন্তত একজন করে থাকা প্রয়োজন। তিনি যত দিন বেঁচে থাকবেন তত দিন যেন আল্লাহ তাকে সুস্থ রেখে মানুষের সেবা করার সুযোগ দেয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হতদরিদ্রদের জন্য একাধিক কোরবানির গরু উপহার দেন মেহেদি হাসান। এছাড়া নিজে ঘুরে ঘুরে কয়েকটি গ্রামের অসুস্থ ও কর্মক্ষম মানুষকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন তিনি।
এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ পড়ুন-
ত্রাণ দিতে গিয়ে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন মেহেদী হাসান
