রূপগঞ্জে জমি আত্মসাৎ করতে ভুয়া ওয়ারিশকে সনদ দেওয়ার অভিযোগ

লিখন রাজ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: ভুয়া ওয়ারিশকে বৈধ সাজাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে মৃত ব্যক্তির জমি আত্মমাৎকারী চক্রের সাথে যোগসাজশে পরপর দুইবার ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মনির হোসেনের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মনির হোসেনের সুপারিশে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য ছাত্তার আলীর সহযোগীতায় ইউপি সচীব হাবিুল্লাহর মাধ্যমে একাধিকবার ওয়ারিশ সনদ নেয় তারা। এতে প্রকৃত জমি মালিকরা রয়েছেন জমি হারানোর শঙ্কায়। ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ জুন রবিবার উপজেলার গোয়ালপাড়া এলাকায়।

গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত তছর আলীর নাতনী শিউলি বেগম জানান, তার মৃত দাদা আরএস রেকডীয় মালিক তছর আলীর সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে স্থানীয় দালাল ও জালিয়াতচক্রের সদস্যরা তছর আলীর ভুয়া স্ত্রী মোমেলা নামীয় মহিলাকে বৈধ স্ত্রী সাজিয়ে ওয়ারিশ সনদ নেয়। পরে ওই জমি প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করে আমরা প্রকৃত মালিকদের বেদখল করার পায়তারা করে।

এসব নিয়ে ইউপি মনির হোসেনের কাছে গেলে তিনি মিমাংসা করে দিবেন বলে ৬লাখ টাকা দাবী করেন। তাতে রাজি না হয়ে সরাসরি চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি তদন্তপূর্বক ওই ওয়ারিশ সনদ বাতিল করে ১২ মার্চ ২০২২ তারিখে প্রত্যায়ন দেন। কিন্তু মনির মেম্বারের দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় সে আবার চৌকিদার ছাত্তার আলীসহ নজরুল গং দিয়ে ভিন্ন কৌশলে আবারো ৯ এপ্রিল ২০২২ইং ওয়ারিশ সনদ নেয়। এভাবে বারবার ওয়ারিশ সনদ নিয়ে ভুমি অফিস থেকে নামজারী করিয়ে নেয় তারা। তাই জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ওয়ারিশ জালিয়াতি কাজ যারা টাকা দিয়ে করেছে তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। তছর আলীর জমি আতœসাতে জড়িত মুল জালিয়াতকারী পক্ষ হলো গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা, বেইলার টেক এলাকার নুরা মিয়া, বাগবের নজরুল ইসলাম ওরফে বিচি নজরুল, আক্তার মিয়া, মনির হোসেন মেম্বার, গোয়ালপাড়া এলাকার জিন্নাত আলী, নজরুল, রহমতউল্লাহ, সোহেল চৌকিদারসহ চিহ্নিত আরো কতিপয় সদস্যা।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মনির হোসেন মেম্বারের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে ভুল বুঝিয়ে ওয়ারিশ সনদে সুপারিশ করিয়েছে। পরে জানতে পেরে লজ্জা পেয়েছি। আমি কোন জালিয়াতি কাজে জড়িত নই। কারো কাছে টাকা পয়সাও দাবী করিনি।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচীব হাবিবুল্লাহ মিয়া বলেন, ওয়ারিশের বৈধতা যাচাইয়ের কাজ আমার নয়, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য যেমন সুপারিশ করেছেন তেমন দিয়েছিলাম। পরে সত্যটা জানতে পেরে গত ১৪ জুন ২০২২ইং একটি প্রত্যায়ন মাধ্যমে বাতিলও করেছি।

এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছালাহউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, জালিয়াতকারীদের অপকর্ম জানতে পেরে তছর আলীর বৈধ ওয়ারিশের পক্ষে একাধিকবার প্রত্যায়নপত্র দিয়ে সনদ বাতিল করেছি। গ্রাম্য শালিসে গত শনিবার পরিষদ মিলনায়তনে জড়িত প্রমাণিত হওয়ায় গ্রাম পুলিশ সদস্য ছাত্তার আলীকে লাঠিপেটা দন্ড প্রদান করেছি।

এ সময় তিনি বলেন, ওয়ারিশ সনদ দেয়ার নিয়ম হলো সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে স্বাক্ষর নিয়ে তিনি দরখাস্ত ফরমে সুপারিশ করেন। ওই সুপারিশপত্র দেখে সচীব ওয়ারিশ সদন প্রস্তুত করেন। পরে চেয়ারম্যান তাতে স্বাক্ষর করেন। ফলে পুরো দায় চেয়ারম্যানের নয়। তবে এ বিষয়ে আরো সতর্ক দৃষ্টি থাকবে। বিধি মোতাবেক কেউ এমন কাজে জড়িত হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *