রাজিব মজুমদার, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মীরসরাইয়ের ওয়াহেদপুরে পরকীয়ার টানে রাতের আধাঁরে যুবকের হাত ধরে সাজেদা আক্তার (২৮) নামে দুই সন্তানের জননী উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১ জুন) গভীর রাতে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী মোঃ মিজানুল ইসলামের স্ত্রী পরকীয়ার টানে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ দেড় বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে সাজেদার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই মোঃ আকবর (৩২) এর সাথে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মীরসরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, ৯ বছর পূর্বে ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের পুত্র দুবাই প্রবাসী মিজানুল ইসলামের সাথে পাশ্ববর্তী খৈয়াছরা ইউনিয়নের পূর্ব মসজিদিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ উদ্দৌলার একমাত্র মেয়ে সাজেদা আক্তারের বিয়ে হয়।
তাদের ঘরে ৭ বছরের একটি ছেলে ও দেড় বছরে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত তিন মাস যাবৎ গৃহবধূর স্বামী মিজানুল ছুটিতে আসে। বিদেশে থাকা অবস্থায় গৃহবধূ সাজেদার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের নুরুল হুদার
ছেলে মোঃ আকবর তাদের ঘরে আসা যাওয়া করতো। এক পর্যায়ে সাজেদার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
এই নিয়ে স্বামী ও তার পরিবার সাজেদাকে বার বার নিষেধ করলেও সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। মঙ্গলবার রাতে স্বামী দুই সন্তান
নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে দেড় বছরের শিশু সন্তানসহ ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পরকীয়ার টানে মোঃ আকবরের হাত ধরে উধাও হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে অশ্রুসিক্ত নয়নে স্বামী মিজানুল ইসলাম জানান, পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও আমি তাকে কম ভালোবাসা দেইনি। প্রবাস জীবনে থেকে অনেক শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জন করে স্ত্রী ও পরিবারকে পাঠিয়েছি সুখে থাকবো বলে।
সেই সুখের ঘরে দুঃখের আগুন লাগিয়ে দুই সন্তানের কথা চিন্তা না করে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় স্ত্রী সাজেদা। আমি আমার শিশু সন্তানসহ স্বর্ণালংকার ফিরে পেতে চাই। আমি তার উপযুক্ত বিচারও দাবী করছি।
গৃহবধূ সাজেদার পিতা সিরাজউদ্দৌলা জানান, আমার একমাত্র মেয়ে সুখের ঠিকানা ছেড়ে বখাটে আকবরের সাথে পালিয়ে যাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি আমার মেয়েকে চাইনা, আমার নাতনীকে ফেরত পেতে চাই।
এই ব্যাপারে ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ জানান, পরকীয়ার টানে গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। একটা পরিবারের তিলে তিলে গড়া সম্মান ও স্বপ্ন ধুলায় মিশে যায়, যা কাম্য নয়।
এই ব্যাপারে মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন জানান, পরকীয়ার টানে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। এই ব্যাপারে উপ-পরিদর্শক মোঃ রাকিবুল হাসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই এর রহস্য উদঘাটন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
