সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: শষ্য ভান্ডার বলে পরিচিত এবং খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা রংপুরে চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে কেজি প্রতি ৬ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এমনি অবস্থায় বুধবার (০১ জুন) বিকেলে দেশের অন্যতম চালের আড়ত নগরীর মাহিগঞ্জে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন পরিষদের উদ্যেগে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন পরিষদের সহকারী পরিচালক আফসানা পারভীন।
অভিযানের খবর পেয়ে মাহিগঞ্জ এলাকার শতাধিক চালের আড়তদার ব্যবসায়ী তাদের দোকান ও গোডাউন বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
সরেজমিন মাহিগঞ্জ চালের আড়তগুলো বন্ধ দেখতে পেয়ে আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে চাল বহন করা ভ্যানের দুই চালক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, অভিযানের খবর পাবার পর পরেই তড়িঘড়ি করে দোকান ও গোডাউন বন্ধ করে সটকে পড়েছেন আড়তদার ব্যবসায়ীরা।
তবে ওই এলাকার অধিবাসী আশরাফুল ইসলাম জানান, মাহিগঞ্জ চালের মোকামে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ হাজার বস্তা চাল মজুত রয়েছে। তারা নিজেরাই সিন্ডিকেট করে গত এক সপ্তাহে কেজি প্রতি চাল ৬ থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের গোডাউন ছাড়াও আশেপাশে বিভিন্ন বাড়ি ও স্থাপনায় গোডাউন বানিয়ে আরও অন্তত ৫০ হাজারের বেশি বস্তা চাল মজুত করে রেখেছে। এসব অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান চালানো প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
তারপরেও ৩টি চালের আড়তে অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার বস্তা চালের মজুত দেখতে পায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষনের কর্মকর্তারা। পরে মুল্য তালিকা না টাঙানো, চাল বিক্রির রশিদে মুল্য লেখা না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩টি চালের আড়তদার ব্যাবসায়ীকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা আফসানা পারভীন জানান, তিনটি চালের আড়তে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চালের দাম বৃদ্ধির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
