তিন জেলায় তিস্তার তীরে ২৩০ কিলোমিটার ব্যাপী মানববন্ধন

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপু ব্যুরো- তিস্তা নদীর ভাঙন রোধ, নদী পুনঃখনন, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, ভাঙন কবলিত হাজার হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবিতে ২৩০ কিলোমিটার ব্যাপী মানববন্ধন করেছেন তিস্তা পারের হাজার হাজার মানুষ।

 

রবিবার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রংপুর গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী জেলায় তিস্তা তীরবর্তী এলাকার দুই ধারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা কাউনিয়ায় তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নেন তিস্তা বাঁচাও নদী রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ। মানবন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতি বছর তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুভিটা ও জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।

 

অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি একেবারে কমে যায়, ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য ভারতের উজানে বাঁধ দিয়ে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নদী পুনঃখনন না হওয়ায় মরা খালে পরিণত হচ্ছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে তিস্তা খনন করে পানির প্রবাহ অব্যাহত রাখলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের কবলে পড়তে হবে না।’

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘তিস্তা নদী বাংলাদেশ অংশে ১১৫ কিলোমিটার প্রবাহিত। এ অংশে প্রতিবছর বন্যা আর ভাঙনে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যা ও ভাঙনের হাত থেকে মুক্তি চান নদী তীরবর্তী মানুষ।’ তিস্তা নদীর সুরক্ষা, দুই তীরের বন্যা-ভাঙন রোধ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান তারা।

 

মানববন্ধনে তিস্তা নদী পুনঃখননের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। বিভিন্ন স্থানে সমাবেশে বক্তব্য দেন– তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম কানু, আমিন বিএসসি, মোজফফর হোসেন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, মাহমুদ আলম, মাহাবুব আলম, আমিনুর রহমান, সাদেকুল ইসলাম দুলাল, আব্দুন নুর দুলাল, বখতিয়ার হোসেন শিশির, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *