ঝালকাঠিতে যুবকের শেকলবন্দী জীবন!

মো: নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: পরিবার পরিজন সবারই আশা ছিলো লেখাপড়া শেষ করে সংসারের হাল ধরবে ছেলেটি। কিন্তু ভাগ্যের চরম নির্মমতায় এখন তাকে দিন-রাত পায়ে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে।

চিকিৎসায় লাখ-লাখ টাকা ব্যয় করে অভিভাবক নি:শ্ব হয়ে পড়েছেন। কী ভাবে ছেলেকে সুস্থ্য করে তুলবেন ভেবে পাচ্ছেন না দরিদ্র অভিভাবক। মায়ের চোখের পানিতে ভেসে যাচ্ছে ছেঁড়া শাড়ির আঁচল। ঝালকাঠি সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের রং মিস্ত্রী মোহাম্মদ তানজের আলী মীরের ছোট ছেলে এমডি হৃদয় হোসেন মীর।

বাবা তানজের আলী জানান, ২০১৬ সালে গ্রামের স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হয় জেলা শহরের একটি বেসরকারি কলেজে। ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষার সময় বাকবিতন্ডায় কলেজের কয়েক সহপাঠী তাকে কলম দিয়ে মাথায় আঘাত করে। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু মানুষিক ভাবে ভারষম্য হারিয়ে ফেলে হৃদয়। বরিশালে দীর্ঘ চিকিৎসায় সেরে উঠে ২০০০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও পাশ করে সে।

কিন্তু মাধেমধ্যেই অসুস্থ্য হয়ে পড়ত। পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে গত ৪ মাস আগে ঢাকায় যায় চাকরির সন্ধানে। কিন্তু আবারও ভাগ্যের প্রতারণায় সেখানেও লোকজনের কাছে মার খেয়ে অসুস্থ হয়ে ফিরে আসতে হয় গ্রামের বাড়িতে। আর সেই থেকেই আবারও মানুষিক ভারষম্য হারিয়ে ফেলেছে হৃদয়।

হৃদয়দের মা তাজনেহার বেগম জানান, বেঁধে না রাখলে ও সবাইকে মারধর করে। ভেঙে ফেলে নিজের এবং আশপাশের বাড়িঘর। বাধ্য হয়ে পায়ে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়েছে বলে মা হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। ছেলের এ অবস্থা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেনা অসহায় মা। তাই মায়ের কান্না আর থামছেই না। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে গোয়ালের গরু বিক্রি, এনজিও থেকে কিস্তির ঋন এবং স্বজনদের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতার নিয়ে এখন নি:স্ব হয়ে পড়েছেন।

বাবা তানজের আলী একজন রং মিস্ত্রী। ছেলের শোকে ঠিকমত কাজ কর্ম করতে পারছেন না। তাই সংসারে দারিদ্র আরও জেঁকে বসেছে। এই অসহায় পরিবারটিকে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে আর্থিক সাহায্য করা হলে সুচিৎসায় হৃদয় স্বাভাবিক হয়ে ওঠতে পারে বলে স্বজন ও এলাকাবাসী কামনা করেছেন।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়, ডাক্তার এইচএম জহিরুল ইসলাম বলেন, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে এই মূহুর্তে হৃদয়ের সু-চিকৎসার ব্যবস্থা নেই। তবে ঢাকায় জাতীয় মেন্টাল হেলথ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট এমডি হৃদয় হোসেন মীর এসএসসিতে ৩ দশমিক ৩৯ এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৩ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *