শাহজাদপুরে রিং বাধের বিভিন্ন অংশে লিকেজ, ঝুকিতে ৬৪ হাজার হেক্টর কৃষি জমির ধান

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতরায় ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মানাধীন রাউতরা রিং বাধের বিভিন্ন অংশে লিকেজ হয়ে বাধটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। এজন্য শঙ্কিত হাজার হাজার কৃষক ও গো- খামারিরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন এন্ড কোম্পানীর বিরুদ্ধে কাজে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২৩ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাধের ক্ষতিগ্রস্থ ১ হাজার মিটার অংশের শুরুতে স্বাভাবিক ভাবে কাজ হলেও সামনে এগোলেই বাস্তব চিত্র চোখে পড়ে।

বাধের উপরিভাগে বড়াল নদীর পানি উঠে গেলেও চটের বস্তায় বালু ভরাট করে বাধের ভেতরের অংশে বস্তা ফেলার প্রস্তুতি চলছে। কিছুদুর এগিয়ে গেলে বাধের ভয়াবহ চিত্র দৃশ্যমান হয়। নদীর পানি বৃদ্ধির পরে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ১দিন পূর্বে বালু ফেলা হয়। একারণে বাধের নিচের অংশে পানি প্রবেশ করে বাধ নরম হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েক স্থানে লিকেজ হয়ে ঝর্ণার মতো পানি বের হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৩ মে) দুপুরে ভেকু মেশিননের মাধ্যমে বাধের লিকেজ হওয়া ঝুকিপূর্ণ অংশে মেরামত করার জন্য খনন করলে সেখান থেকে পানি বের হতে থাকে। পরে ঝুকিপূর্ণ অংশটি মেরামত করা স্থগিত রাখা হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছরের চেয়ে এবছর বাধ নির্মাণ ধীর গতিতে চলছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর বাধ দুর্বল মনে হচ্ছে।

এসময় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রাকৌশলী ইমতিয়াজ আহমেদ এর কাছে বাধ নির্মানে অব্যাবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাধের নির্মাণ কাজ চলছে। যে স্থান গুলোতে লিকেজ হয়েছে সেগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে। পানি আর বৃদ্ধি পাবেনা এজন্য চিন্তার কিছু নেই।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার প্রায় ৬৪ হাজার হেক্টর কৃষি জমির ধান রক্ষায় ও এই অঞ্চলের গো-চারণ ভুমিতে পানি প্রবেশ ঠেকাতে ১৯৮৬ সালে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের বাঘাবাড়ি থেকে তারাশের নিমাইচরা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিঃমিঃ বাধ নির্মাণ করা হয়। বাধের ভেতরে পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে রাউতরা অংশে একটি স্লুইচ গেইট নির্মাণ করা হয়।

১৯৮৮ সালে প্রবল বন্যায় এই বাধের রাউতরা অংশে স্লুইচ গেইটের পাশে পানির চাপে ভেঙে যায়। তখন থেকেই প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে বাধের এই ক্ষতিগ্রস্থ্য অংশ পুননির্মাণ করা হয়। এবছরও ২কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যায়ে বাধের ক্ষতিগ্রস্থ্য অংশ পুননির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি বছরে নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের মেসার্স আমিন এন্ড কোম্পানী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *