খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আকন্দেরবাইদ এলাকায় সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড পোলট্রি খামারের মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্যে কৃষকের ৫০ একর জমির ফসল পচে ও পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী গত ২৮ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লক্ষিন্দর ইউনিয়নের আকন্দেরবাইদ এলাকায় কৃষি জমি ঘেষে স্থাপন করা হয়েছে সিপি কোম্পানীর পোল্ট্রি মুরগির খামারের ১৫ নম্বর শেট। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা খামারটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা নেই। ড্রেন ও পাইপ দিয়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কৃষকের ফসলি জমিতে।
এ কারণে প্রতি বছরই মুরগির খামারের বিষ্ঠা ও বর্জ্যে ধানসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবী, সিপি কোম্পানির বিষাক্ত বর্জ্যে গত ৫ বছর যাবৎ এ ঘটনা ঘটছে। বিষাক্ত বর্জ্য ছাড়াও এর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। কোম্পানির পারপাশের বিষাক্ত বাতাসের প্রভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে ছোট ছোট বাচ্চারা।

কৃষক লস্কর আলী জানান, খামার কর্তৃপক্ষকে প্রতিবারই ফসল ক্ষতির বিষয়টি জানানো হয়, কিন্তু কোনো কাজে আসেনা। উল্টো একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদের মামলার ভয় দেখানো হয়।
জবেদা খাতুন নামে আরেক ভুক্তভোগী বৃদ্ধ মহিল জানান, আমার একটি পুকুরে ২৫ হাজার টাকার মাছ দিয়েছিলাম কিন্তু বিষাক্ত বর্জ্যে সব মরে গেছে। বিচার চাইতে গেলে সিপি কোম্পানির লোকজন কোন পাত্তাই দেয় না।
সিপি কোম্পানির ভালুকা ১৫ নাম্বার শেটের ব্যবস্থাপক রাইসুল ইসলাম নজর টুয়েন্টিফোরকে বলেন, আমাদের কোম্পানির বর্জ্য বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আর যদি কোনভাবে বর্জ্য গিয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখবো।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে এ ব্যাপারে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
