ফ্যান পড়ে নয়, ‘মায়ের হাতে খুন’ টাঙ্গাইলের দুই শিশু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাই‌লের ভূঞাপু‌রে দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মা আত্মাহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।

তিনি ব‌লেন, শিশুদের মা সাহিদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের জানিয়েছেন, তিনি দুই ছেলেকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। পরে নিজে চলন্ত ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহনন করতে যান। এ সময় ফ্যান ভেঙে তিনি নিচে পড়ে জ্ঞান হারান।

এসপি আরও বলেন, তাকে এই হত্যার জন্য কেউ ইন্ধন দিয়েছে কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও কোনো মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শিশুদের বাবা ইউসুফ বলেন, ‘আমার কেউ রইল না। ছেলেদেরও হত্যা করে ফেলল। ওর বিচার চাই। ওর মতো অমানুষ হয় না যে নিজের সন্তানকে হত্যা করতে পারে।’

রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপু‌রে টাঙ্গাইলের ভূঞাপু‌র উপ‌জেলার নিকরাইল ইউনিয়‌নের ১ নম্বর পুনর্বাসন এলাকা থে‌কে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার ক‌রা হয়। এ সময় তাদের সা‌হিদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহতরা হচ্ছে- নিকরাইল ইউনিয়‌নের ১ নম্বর পুনর্বাসন এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে সাজিম (৬) ও সানি (৪ মাস)।

পুলিশ সুপার বলেন, সাহিদার স্বামীর কোনো কিছু নেই। তার ভাই ও ভাবি মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিত। তাদের মধ্যে এক সপ্তাহ আগেও ঝগড়া হয়েছিল। এর ফলে সাহিদা আশঙ্কা করছিলেন তার ভাই ও ভাবি তাদের সন্তানকে মেরে ফেলবেন। এই আশঙ্কা থেকেই সাহিদা তার দুই ছেলেকে হত্যা ক‌রে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এর আগে স্থানীয়রা জানান, ইউসুফ তার স্ত্রী সাহিদাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নিকরাইল ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় থাকেন। তিনি মাছ ধরার কাজ করেন। সকালে মাছ ধরার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তবে সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ি থাকা নিয়ে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয়রা দুই দিন আগে দুই পক্ষকে ডেকে মীমাংসা করে দেন। শিশুদের শরীরে কোনো আঘাত নেই। ফ্যান পড়লে পাখাসহ বডি পড়ে যাবে। কিন্তু মাত্র ফ্যানের দুটি পাখা খুলে পড়ে আছে। তাতে পাখাতে কোনো রক্তের দাগ নেই। দুই শিশুর মৃত্যু সন্দেহজনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *