যশোরের কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলামের ছেলে কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে শ্রাবণের সভাপতি হওয়ার বিষয়টি।
আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বিএনপির রাজনীতি করার বিষয়টি শ্রাবণের বাবাও ভালোভাবে নেননি। একারণে ছেলের সঙ্গে ইতোমধ্যেই ছিন্ন করেছেন সম্পর্ক। তবে ছেলে যে সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় এতদূর এসেছে সেটা অকোপটে স্বীকার করেছেন কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এই আওয়ামী লীগ নেতা।
সোমবার দুপুরে কাজী রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ছেলেকে তো আর অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ভিন্ন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ছেলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এক যুগের বেশি সময় আমাদের সাথে কথা হয়নি, বাড়িতে আসেনি। সে এত দূর এসেছে, তার নিজস্ব প্রচেষ্টায়। আমরা তাকে কোনো অর্থনৈতিক সাপোর্ট দেইনি। এমনকি জেলার কোনো আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কেউ তাকে সাপোর্ট দেয়নি।
তিনি আরো বলেন, আমি, আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আমরা পারিবারিকভাবেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত। শ্রাবণ যখন ভিন্ন দলের রাজনীতি করা শুরু করতে লাগলো, তখন তাকে অনেকবার বুঝিয়েছি। কিন্তু সে আমাদের কথা না শুনে ছাত্রদলে যোগ দিলো। এরপর তার লেখাপড়ার টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেই। তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি।
শ্রাবণের বাবা আরও জানান, এখন পর্যন্ত পরিবারের সাথে শ্রাবণের সম্পর্ক ছিন্ন রয়েছে। সে পরিবার থেকে অনেক দূরে রয়েছে। এমনকি ঈদ বা কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানেও বাড়িতে আসে না। এমনকি বড়বোনের বিয়েতেও অংশ নেয়নি সে।
শ্রাবণের গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রামে। উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম এবং সালেহা ইসলাম দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে শ্রাবণ সবার ছোট। ২০০৩ সালে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র শ্রাবণ কিছুদিনের মধ্যেই ছাত্রদল কর্মী হিসেবে হল ও বিভাগের সহপাঠীদের মধ্যে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
শ্রাবণের বড় ভাই মুস্তাফিজুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত তিনি। এদিকে তার আরেক ভাই মুজাহিদুল ইসলাম পান্না উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। এছাড়া ছোট ভাই আজাহারুল ইসলাম মানিক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক।
