ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিতে টেকসই ঐক্য গড়তে চান চরমোনাই পীর

দেশের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তার দাবি, অতীতে যারা ক্ষমতায় থেকেছে মানুষ তাদের পছন্দ করছে না। এ কারণে তার দলের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তার দলের পক্ষে গণজাগরণ দেখতে পাচ্ছেন।

শুক্রবার (০১ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর গুলিস্তান শহীদ মতিউর রহমান পার্কে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়।

ক্ষমতায় যেতে ধর্মভিত্তিক সবগুলো দলের প্রতি ঐক্যের আহ্বানও জানান চরমোইয়ের পির। বলেন, ‘আসুন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি না করে আমরা ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নেয়ার জন্য একটি টেকসই ঐক্য গড়ে তুলি।’

দুপুরের পর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন গুলিস্তান পার্ক এলাকায়। দুপুর ১২টার আগেই লোকারণ্য হয়ে যায় জায়গাটি। জুমা শেষেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পিকআপ ভ্যানে করে নেতাকর্মীদের গুলিস্তানমুখী যাত্রা দেখা গেছে। নেতাকর্মীদের চাপে জুমার নামাজের পরই গুলিস্তান-মতিঝিল সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশে আসা কর্মী-সমর্থকরা ওই সড়কের ওপর অবস্থান করেন। এতে মানুষের চলাচলের ভোগান্তি তৈরি হয়।

সভাপতির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, ‘আমরা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এ জন্য আমরা দেশে ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই। দেশের মানুষ আজ বুঝতে পারছে ইসলাম ছাড়া তাদের মুক্তির পথ নেই। দেশের আজ ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।‘

তিনি বলেন, ইসলামি আন্দোলন প্রতিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ও করবে। সে লক্ষ্যে প্রতিটি ঘরে হাতপাখার দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে, ভোটার তৈরি করতে হবে।

চরমোনাই পী বলেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা শেষের দিকে। সরকার বর্তমান জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু আমাদের বক্তব্য হলো এই সংসদ বহাল রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণ মেনেও নেবে না। এ সময় সব দলের অংশগ্রহণে ও পরামর্শে জাতীয় সরকার গঠনেরও দাবি জানান তিনি।

রেজাউল করীম বলেন, অতীতে অনেক নির্বাচন হয়েছে, দেশ পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত ও অনির্বাচিত দুই সরকারই দেখেছে। বর্তমান সরকার অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংবিধান পরিবর্তন করেছে। দেশের মানুষ আজ আতঙ্কিত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করেছে।

দেশে ইসলামি সরকার প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার অল্প সংখক মানুষের জন্য দেশে মদের লাইসেন্স দিয়েছে। অথচ ইসলামি রাষ্ট্র বাস্তবায়নের প্রতি মানুষের ভুল ধারণা রয়েছে। কিন্তু ইসলামি রাষ্ট্র বাস্তবায়ন হলে দেশে শান্তি বিরাজ করবে। নারী অধিকার রক্ষা হবে। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করতে পারে না, মানুষকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করতে পারে না, বিদেশি শক্তির গোলামি করতে পারে না। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাপ্রেমীদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিকদের শক্তভাবে লড়তে হবে।

সমাবেশ থেকে আগামী ১ জুলাই ঢাকায় ও এর আগে দেশব্যাপী বিভাগীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এ সময় ইসলামী আন্দোলন ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *