অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনার ঝড়। সম্মেলনে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হুমায়ুন রশীদ আকন্দ সোনাকে সভাপতি ও হেলাল ফকিরকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে শহর জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
বিএনপি নেতা দলে পদ পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন সোনা। সম্মেলনে দলের পুরোনো অনেক নেতা প্রার্থী হলেও চিহ্নিত বিএনপি নেতাকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আনা দুঃখজনক।
তাদের দাবি, টাকা-পয়সা খরচ করে অনেক নেতার আস্থা অর্জন করেছেন সোনা। এখন সেই নেতাদের ম্যানেজ করেই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ বাগিয়েছেন তিনি।
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মজিদ সুমন বলেন, এ অবস্থায় নিজের পদ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে। আাগামীতে বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় এসব নেতাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এ দিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, হুমায়ুন রশীদ আকন্দ সোনা ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপির ৩নং ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। এর আগে ১৯৯৭ সালে সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। দল থেকে এসব নেতা বেরিয়ে যাওয়া অবশ্যই দলের ও নেতৃত্বের ব্যর্থতা বলে মনে করেন তিনি।
শফিক আরো বলেন, আমার জানামতে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেননি এবং তাকে বহিষ্কারও করা হয়নি।
এ দিকে সোনার এই পদ পাওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মজিদ সুমন লিখেছেন- ‘সাপকে দুধ দিয়ে লালনপালনে কোনই লাভ নেই, সুযোগ পেলে সে ফণা তুলে ছোবল মারবেই, আওয়ামী লীগকে কমজোড় করার অধিকার কাওকেই দেয়নি আওয়ামী দলীয় গঠনতন্ত্র। এবার এই স্বার্থান্বেষী নেতৃত্বের দল থেকে বিদায়ের সময় এসেছে। টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগ এর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির পদধারী একই ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।’
মেহেদী হাসান নামে একজন লিখেছেন, ‘এটাতো এক রকম সার্কাস চলিতেছে, বিএনপির লোক কিভাবে আওয়ামীলীগ সভাপতি নির্বাচিত হয়।’
মাহমুদনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ টাঙ্গাইল আইডি থেকে লেখা হয়েছে, ‘বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে উনি আওয়ামী লীগে ঢুকেছেন। উনি সাকসেস। জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ নজরদারি প্রত্যাশা করছি।’
মাসুম হাসান নামে এক যুবলীগ কর্মী ব্যঙ্গ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন – ”সোনা” ঠিকই আছে, শুধু “দল” থেকে ”লীগ” হয়েছে।
