মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: পাঁয়ে ফোঁড়ার কারণে ৩২ বছর আগেই পুড়ো এক পা কেটে ফেলতে হয়। সেই থেকে এক পায়ের উপর ভর দিয়েই চলছে জীবন। সংসারে বয়স্ক মা ও স্ত্রী ব্যতিত কেউ না থাকায় নিজেকেই জীবিকা নির্বাহের জন্য হাল ধরতে হয়েছে বাবা মারা যাওয়ার পরই।
সেই থেকে চলছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নবগঠিত ভাওড়া ইউনিয়নের সরিষাদাইড় চরপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র আনোয়ার হোসেনের জীবন। সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন আনোয়ার। কখনো কারো কাছে হাত পাতেননি। পরিশ্রম করে সৌভাগ্যের চাকা ঘুড়াতে চান।
আনোয়ার হোসেনের সাথে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দুবেলা দু-মুঠো খাবার খেয়ে বাঁচার কথা ভেবে পঙ্গু পা নিয়েই প্রথমে একটি ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালায়। তার বেশকয়েক বছর পর আবারও শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণে আর্থিক সংকটে শেষ সম্বল একমাত্র উপার্জনের গাড়িটি বিক্রি করে ফেলতে হয়! তারপর যেনো জীবন থমকে দাঁড়ায়। তবুও থেমে থাকেননি আনোয়ার। সুস্থ্য হয়ে স্ত্রীর সহযোগিতায় জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি কৃষি কাজ শুরু করেন।
তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও ১০ শতাংশ জমিতে কয়েক প্রকার সবজি আবাদ করেছেন। ফলন ভালো তাই অধিক লাভবানেরও আশা করছেন। তিনি কখনো কৃষি সহায়তা পাননি, তবে পেলে আরো বেশি জায়গা লিজ নিয়ে প্রতিটি মৌসুমের ফসল আবাদ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার বেঁচে থাকা খুবই কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে।
অদম্য আনোয়ারের মতো ব্যক্তির পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা বলে মনে করেন সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা। তাদের সহযোগিতায় পাল্টে যেতে পারে একটি পরিবারের আশা-ভরসা। বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে আনোয়ারের মতো এরকম হাজারো পরিবারের কষ্ট দূর হতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। যদি সে কৃষক বান্ধব হয় তাহলে তাকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। কৃষি কাজে অগ্রসর থাকলে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাকে প্রতি মৌসুমে ফসল আবাদ করার ব্যবস্থা করে দেবো।
