ভূঞাপুরে যমুনার চর কেটে বিক্রি! হুমকির মুখে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বাঁধ

তৌফিকুর রহমান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের যমুনায় জেগে ওঠা চর কেটে বিক্রি করায় হুমকির মুখে পড়েছে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও নির্মিত গাইড বাঁধ। ক্ষমতাশীল দলের নেতাকর্মীরা ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলার অর্জূনা ইউনিয়নের জগৎপুরা এলাকায় একাধিক বালুর ঘাট তৈরি করে ট্রাকযোগে বিক্রি করছে। স্থানীয়রা অবৈধ এসব বালুর দদঘাট বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত দিলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের কুঠিবয়ড়া হতে নলীন বাজার পর্যন্ত সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়েকশ কোটি টাকা ব্যায়ে গাইড বাঁধ নির্মাণ করেছে। কিন্তু সেই গাইড বাঁধের কাছ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে বালু মাটি কাটা হচ্ছে। এতে জগৎপুরা এলাকার ৫শ মিটারের মধ্যে ৫টি বালুর ঘাট তৈরি করে ট্রাকযোগে বালু মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু মাটি কাটার ফলে বন্যার সময় নির্মিত বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ এসব বালুর ঘাট।

জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতার নেতৃত্বে দলের কতিপয় নেতাকর্মীরা ৫টি বালুর ঘাট তৈরি করেছে। জেগে উঠা এসব চর স্থানীয়রা মালিকানা দাবী করে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছে। পরে বালু ব্যবসায়ীরা ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের প্যালাসাইডিং ভেঙে রাস্তা তৈরি করে হাজার হাজার ট্রাক প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে। এদিকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জগৎপুরার মানিক হোসেন নামের একব্যক্তি অবৈধ এসব বালুর ঘাট বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জগৎপুরা এলাকায় রাতের আধারে বেআইনিভাবে বালু মাটি কাটা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক। এসময় বালু মাটি কাটা বন্ধ করার কথা বলায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

জগৎপুরা গ্রামের রায়হান বলেন, আন্নেরা লিখে কি করবেন। প্রশাসনের লোকজন আসে বেশি টাকা পায় চলে যায়। বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নিজের খেয়ে কার দায় পড়েছে কিছু বলতে।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ রহিজ উদ্দিন বলেন, যমুনায় বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে কয়েক মাস। এরমধ্যে প্রভাবশালীরা বাঁধের কাছ থেকে বেকু দিয়ে বালু মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিক্রি করছে। কিছু বলতে গেলে মারধর করতে আসে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। বিগত দুই মাস ধরে জেগে উঠা চর কেটে বিক্রি করছে তারা। অপরিকল্পিতভাবে এভাবে বালু মাটি কেটে ফেলা হলে বন্যার সময় বাঁধ ভেঙে যাবে।

রাজন হোসেন বলেন, যমুনা নদীতে যে গভীরতায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে তার থেকে বেশি গভীর করে বালু মাটি বেকু দিয়ে কাটা হচ্ছে। এতে বন্যা হলেই ভেঙে পড়বে বাঁধ। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হবে। এছাড়া বালু মাটি উত্তোলণের ফলে হুমকিতে রয়েছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক।

ক্ষতিগ্রস্থ মানিক হোসেন বলেন, বাপ-দাদার জমিতে চর জেগে উঠেছে। সেই চর জোরপূর্বকভাবে কেটে ফেলা হচ্ছে। বাঁধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। লিখিতভাবে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, বালুর ঘাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু পরবর্তিতে রাতের আঁধারে আবার তারা বালুর ঘাট চালু করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধভাবে এসব বালুর ঘাট বন্ধে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর বাঁধের পাশে যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় গাইড বাঁধের কাছ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *